28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক বন্ধুত্বের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক বন্ধুত্বের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দলে ঢাকা শহরে ১ ডিসেম্বর এক গোপন বৈঠকে বাংলাদেশি নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়, যেখানে জামায়াতে ইসলামী দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা ও আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তার প্রভাবের কথা উঠে আসে। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের পথ খোঁজা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগ মূল্যায়ন করা।

বৈঠকে উপস্থিত কূটনীতিকরা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি শাসন ক্ষমতা পায় তবে শারিয়াহভিত্তিক নীতি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরোধী হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে কূটনীতিকরা পূর্বেই কল্পনা করে পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। যদিও নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ না করা হয়, তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুবার নিষিদ্ধ হয়েছে; সর্বশেষে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও দলটি নিষিদ্ধের শিকার হয়। ঐতিহাসিকভাবে দলটি শারিয়াহ আইন প্রয়োগ, নারীর কর্মঘণ্টা কমানো এবং ধর্মীয় নীতি ভিত্তিক শাসনের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে দলটি নিজেকে সংস্কারমুখী হিসেবে উপস্থাপন করে, দুর্নীতি নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

মার্কিন কূটনীতিকরা, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, পুনরুজ্জীবিত ইসলামপন্থী আন্দোলন ও নবোদ্যমে থাকা ইসলামি গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তার সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সূচক হয়ে দাঁড়াবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলটির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা কূটনৈতিক স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকের সময় কূটনীতিকরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন, তারা কি জামায়াতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের (ছাত্রশিবির) টকশো বা অন্যান্য প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে ইচ্ছুক। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে দলটির তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তারা উল্লেখ করেন। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এই ধরনের আমন্ত্রণের বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বৈঠকের অডিও রেকর্ডিং অনুসারে, কূটনীতিকরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে শাসক আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে, জামায়াতে ইসলামীকে সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করার পেছনে কৌশলগত কারণ তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি দলটি শাসন ক্ষমতা পায় এবং শারিয়াহভিত্তিক নীতি প্রয়োগ করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে, ফলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলা হতে পারে।

কূটনীতিকরা এছাড়াও জোর দেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্থিতিশীল রাখা এবং সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখা। তাই, জামায়াতে ইসলামীকে বন্ধুত্বের দৃষ্টিতে দেখা মানে দলটির সঙ্গে সম্পূর্ণ সমর্থন নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাবকে পূর্বাভাস দিয়ে প্রস্তুত থাকা।

এই গোপন বৈঠকটি ঢাকা শহরে এক নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়। বৈঠকের বিষয়বস্তু ও ফলাফল সম্পর্কে কোনো সরকারি প্রকাশনা এখনো প্রকাশ করেনি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, কূটনীতিকদের এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করার ইচ্ছা স্পষ্ট।

বৈঠকের পর কূটনীতিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নীতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে যদি জামায়াতে ইসলামী শাসন ক্ষমতা পায় এবং শারিয়াহ আইন প্রয়োগ করে। তারা উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে, দলটির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে আনা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা স্থাপন করা সম্ভব হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, তার ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পারফরম্যান্স ও শাসন নীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা দলটির সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। এই বৈঠকটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন সংযোগের সূচনা হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments