কলম্বোর আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ১৯ রানের পার্থক্যে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজের বিজয় নিশ্চিত করেছে। টস জিতে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাটিংয়ে বেরিয়ে ২৫২ রান তৈরি করে লক্ষ্য স্থাপন করে, যার পর ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
শ্রীলঙ্কা টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমে ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিল মিশারার সঙ্গে দৃঢ় শুরুর সূচনা করে। নিসাঙ্কা ২১ রান এবং মিশারার ২৭ রান নিয়ে দলকে স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়, তবে দুজনই মাঝারি ওভারে আউট হয়ে যায়। তাদের প্রস্থান সত্ত্বেও, মাঝারি ক্রমে কুসাল মেন্ডিসের অটল পারফরম্যান্স দলকে সঞ্চালনা করে।
মেন্ডিস ৯৩ রান অচল রেখে ১১টি চারে ১১টি চারের মাধ্যমে স্কোরে গতি যোগ করেন। তার সঙ্গে জ্যানিথ লিয়ানাগের পার্টনারশিপ দলকে ২০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়, যা শ্রীলঙ্কাকে ২৫২ রানের মোট স্কোরে স্থির করে। মেন্ডিসের একক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কামিল মেন্ডিস ১২ রান, এক ছক্কা ও তিনটি চারে ২৫ রান যোগ করেন, যা শেষ পর্যন্ত দলকে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
ইংল্যান্ডের শিকড় গড়ে তুলতে বেন ডাকেট ও জো রুটের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুজনই পঞ্চাশের কাছাকাছি রান করে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন, তবে পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা স্কোরকে লক্ষ্য থেকে দূরে ঠেলে দেয়। জস বাটলার ও লিয়াম ডসনের প্রত্যাবর্তন ৪৬তম ওভারে ঘটে, যখন ইংল্যান্ডকে ৫৯ রান দরকার ছিল।
ইংল্যান্ডের শেষের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করতে জেমি ওভারটন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি আসিথা ফার্নান্দোকে চার ও ছক্কা মারেন, এরপর প্রামোদ মাদুশানকে দুইটি চারে দুটো চার দিয়ে সমর্থন করেন। ৩৪ রান বাকি থাকলে ওভারটন আবার আসিথাকে চার ও ছক্কা দিয়ে স্কোর বাড়ান। তবে শেষের ২০ রান সমীকরণে ওভারটন ও তার সঙ্গীরা যথেষ্ট রুন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন, এবং শেষের ডেলিভারিতে প্রামোদকে ক্যাচে আউট করে শেষ করে।
শ্রীলঙ্কার বলার দিকে ফিরে দেখা যায়, দানাঞ্জা ডি সিলভা ১০ রান এক চারে করে দ্রুত আউট হন, আর আদিল রাশিদের বলেও তিনি দ্রুতই বিদায় নেন। চরিত্র আসালাঙ্কা ও অন্যান্য বোলারদের সঠিক লাইন ও লম্বা বলের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ বজায় রাখে, যদিও ওভারটনের শেষের আক্রমণ কিছুটা সাফল্য পায়।
শ্রীলঙ্কার জয় সিরিজের গতি পরিবর্তন করে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পরাজিত হয়েছিল, তবে এই সিরিজে তারা বিপরীত ফলাফল অর্জন করে। মেন্ডিসের অচল পারফরম্যান্স, লিয়ানাগের সমর্থন এবং ওভারটনের শেষের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।
সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে শ্রীলঙ্কা আবারই ঘরে মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের আশা জাগিয়ে তুলবে, আর ইংল্যান্ডকে তাদের ব্যাটিং ও বলিং ব্যালান্স পুনর্বিবেচনা করতে হবে।



