27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমাগুরা-১ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, সন্দেহভাজন ছয়জন

মাগুরা-১ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, সন্দেহভাজন ছয়জন

মাগুরা সদর উপজেলার মাগুরা-১ নির্বাচনী এলাকার ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝখানে ঘটেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ভোটকেন্দ্রটি ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অবস্থিত, যেখানে নির্বাচনের জন্য প্রায় দুই হাজার ভোটার নিবন্ধিত।

মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নির্দেশে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিকেলে দুইটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার ও প্রধান গেটের কাছে বসিয়েছেন। ক্যামেরাগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার নজরদারি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছিল। ক্যামেরাগুলো ভোটারদের প্রবেশ ও প্রস্থানের রেকর্ড, পাশাপাশি ভোটদানের সময় কোনো অনিয়ম ঘটলে তা রেকর্ড করার জন্য কনফিগার করা হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি ক্যামেরা ধ্বংসের শিকার হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অজানা ব্যক্তি লাঠি ব্যবহার করে ক্যামেরাটিকে আঘাত করে ভেঙে ফেলে। ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাস্থল ধরা পড়লেও অন্ধকারের কারণে আক্রমণকারীর মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি। ভাঙা ক্যামেরার অংশগুলি দ্রুতই স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা সংগ্রহ করা হয়, তবে কোনো প্রমাণমূলক বস্তু পাওয়া যায়নি।

ফুটেজে দেখা যায় লাঠি হাতে এক ব্যক্তি ক্যামেরার দিকে এগিয়ে আঘাত করে, তবে আলো কম থাকায় তার পরিচয় নির্ধারণ করা কঠিন। অন্ধকারের পাশাপাশি ক্যামেরার কোণও এমনভাবে ছিল যে মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ভোটকেন্দ্রের সামনে বিশাল খেলার মাঠ এবং পার্শ্ববর্তী শান্ত সড়ক থাকায় এই স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, পূর্বে এই এলাকায় অশান্তি ও গ্যাং কার্যকলাপের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল, তাই অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়।

রাতের মাঝামাঝি সময়ে ক্যামেরা ধ্বংসের খবর পাওয়া মাত্রই বিদ্যালয়ের নাইটগার্ড ক্যামেরার অবস্থা পরীক্ষা করে ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে নির্দেশ দেন। বিদ্যালয়ের প্রশাসন ঘটনাটি স্থানীয় মিডিয়ায় জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানায়।

প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় ছয়জন যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের নাম ও ঠিকানা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশ তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত। পুলিশের মতে, সন্দেহভাজন যুবকরা পূর্বে অশান্তি সৃষ্টি করা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে এখনো তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো প্রমাণ সংযুক্ত হয়নি।

মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ তদন্ত চালু করেছে। তারা ক্যামেরা ভাঙার প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি আশেপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরা ও গৃহস্থালির রেকর্ড পর্যালোচনা করছে। ফরেনসিক দল ক্যামেরার ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ থেকে টুকরো সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা চালু করেছে।

পুলিশ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ধ্বংস করা নির্বাচন আইন অনুযায়ী অপরাধ, যার শাস্তি কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments