চট্টগ্রাম নগরীর প্যারেড মাঠে শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ.এফ.এম. খালিদ হোসেন দেশের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত, এবং বর্তমান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি দৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানটি বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ’ নামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ড. হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি ধর্মীয় নেতাদের মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করে বলেন, ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তার অবদান এক অনন্য উদাহরণ।
ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের মৃত্যু ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঘটে। তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ধর্মীয় সমাবেশে তার স্মৃতিচারণের মাধ্যমে উপস্থিতদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
সরকারের এই ধরনের প্রকাশনা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারী কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক সমন্বয়ের বার্তা প্রদান করছেন, যা দেশের বহুমুখী সংস্কৃতিকে একত্রিত করার লক্ষ্যে। এই প্রচেষ্টা বিশেষত নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বিপিএনও জাতীয় ঐক্যবদ্ধতার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। পার্টির নেতা মির্জা ফখরুল পূর্বে উল্লেখ করেন যে সব জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া দরকার। এই বক্তব্য সরকারী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেখা যায়, যদিও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রয়েছে।
বৈরাট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে, বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সমর্থন অর্জনে। তবে সমালোচকরা দাবি করেন, বাস্তব নীতি ও কার্যকরী পদক্ষেপ ছাড়া কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হবে না।
ড. হোসেনের বক্তব্যের পর সরকারী প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি, তবে ভবিষ্যতে ধর্মীয় সংহতি বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগের মধ্যে interfaith dialogues, সামাজিক সেবা প্রকল্প এবং শিক্ষামূলক ক্যাম্পেইন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের অবদানকে স্মরণ করে, তার আদর্শ অনুসরণে সমাজসেবার কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখতে সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় দিবসের সময়ে সমন্বিত ইভেন্টের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধতা দৃঢ় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ধর্ম উপদেষ্টা ড. হোসেনের মন্তব্য এবং ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের স্মরণসভা চট্টগ্রামে ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক সমন্বয়ের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই এই দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



