28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত, ৭৮% সরকার সমর্থক

ইরানে দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত, ৭৮% সরকার সমর্থক

ইরানের রাজধানী তেহরানে গত দুই সপ্তাহে ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ফলে মোট ৩,১১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদীর মতে, শিকারের ৭৮ শতাংশই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থক, অর্থাৎ সরকারপক্ষের অংশ। বাকি ২২ শতাংশই সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পড়ে।

দু’সপ্তাহের সংঘাতে ২,৪২৭ জনকে সরকার “শহীদ” হিসেবে ঘোষণা করেছে, আর সরকারবিরোধী দিক থেকে ৬৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাউন্সেলর উল্লেখ করেন, এই সহিংসতাকে “সুপরিকল্পিত হাইব্রিড যুদ্ধ” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যেখানে অর্থনৈতিক অসন্তোষের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি বা প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করছে বলে দাবি করা হয়।

বিক্ষোভের সময় ব্যাপক সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। ৭৫০টি ব্যাংক ও বীমা সংস্থা, ৩৫০টি মসজিদ, ৭০০টি বাজার হল, ৩০৫টি বাস, ৮০০টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ৬০০টি এটিএম বুথ, ২৫০টি বাসস্ট্যান্ড এবং ৮০৯টি মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংখ্যা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ফলে আর্থিক ও সামাজিক অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

বিক্ষোভের সূচনা জানুয়ারি ১ তারিখে ইরানের ব্যবসায়িক গোষ্ঠী থেকে হয়েছে। মুদ্রার মানের সঙ্গে ডলার ও ইউরোর পার্থক্য বাড়ার ফলে ব্যবসায়ীরা সরকারকে এই সমস্যার সমাধান চেয়ে বিক্ষোভে নামেন। দূতাবাসের বিবরণে বলা হয়েছে, মুদ্রা বৈষম্য একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, তবে এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিক্ষোভকে উস্কে দেয়ার জন্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে, যা তেহরানের সীমা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশে বিস্তার লাভ করেছে।

পশ্চিমা মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান সরকার পতনের পথে রয়েছে বলে ধারণা প্রচারিত হয়েছে, তবে দূতাবাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবতা ভিন্ন। তারা যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে এবং কিছু আন্দোলনকারীকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তবে এই সব ষড়যন্ত্রের মুখে ইরান সরকার দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে।

বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সেবা, বিশেষ করে স্টারলিংক নেটওয়ার্কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। দূতাবাসের তথ্য অনুসারে, ইরান সরকার এই ধরনের সাইবার আক্রমণকে প্রতিহত করে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের স্বায়ত্তশাসন ও তথ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিক্ষোভের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সরকার সমর্থক ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে মৃত্যুর পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং অর্থনৈতিক নীতি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তেহরানের সরকার এখনো এই ঘটনার পরিণতি মূল্যায়ন করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ বজায় রেখে দেশীয় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের দিকে মনোনিবেশ করছে।

ইরান দূতাবাসের এই তথ্য উপস্থাপনা ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশিত হয়। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ, এবং ইরান সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতি সংশোধন, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনঃমূল্যায়ন অপরিহার্য হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments