যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বৈঠকের পরে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে একটি জটিল ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির ধারণা প্রকাশিত হয়েছে। দুই নেতা উল্লেখ করেছেন যে, এই আলোচনায় আর্কটিক ও উত্তর মেরু অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হবে। চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদী এবং উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হবে বলে ট্রাম্প জোর দিয়েছেন।
ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি পুরো আর্কটিকের জন্য একটি সমন্বিত চুক্তি গড়ে তোলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও খনি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই কাঠামো সফল হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে। ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এই চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট হবে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে কোনো ভিন্নমত নেই; তিনি পূর্বে ইজারা ধারণা প্রত্যাখ্যান করে মালিকানার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী চুক্তির শর্তগুলো গঠন করা হচ্ছে এবং তা ইতিমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
মার্ক রুটের মন্তব্যে তিনি জানান, চুক্তিতে খনির অধিকার সংক্রান্ত ধারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, ইউরোপীয় দেশগুলোকে গোল্ডেন ডোম ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে দূরপাল্লার মিসাইল হুমকি থেকে রক্ষা পেতে একসাথে কাজ করার প্রস্তাবও তিনি তুলে ধরেছেন। রুট স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন হবে না।
রুটের এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, চুক্তি নিয়ে সকল পক্ষই সন্তুষ্ট এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এই ধরণের আন্তর্জাতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেনও একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ডেনমার্কের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র এই দুইই রাখে এবং ন্যাটো এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জানে। ফ্রেডেরিকসেন উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব, তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, ডেনমার্কের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে ন্যাটো সম্পূর্ণভাবে অবগত এবং ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে বর্তমান কাঠামো বজায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা তাদের সার্বভৌমত্বের অধিকারকে ক্ষুন্ন করবে না।
এই আলোচনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ট্যারিফ নীতি থেকে সরে এসে আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টা দেখা যায়। ট্রাম্পের সরকার গ্রিনল্যান্ডকে কেবল ভৌগোলিক নয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
নাটোর পক্ষ থেকে রুটের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, বিশেষ করে গোল্ডেন ডোমের মতো প্রতিরক্ষা প্রকল্পে। এই ধরণের সহযোগিতা আর্কটিকের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে।
ডেনমার্কের সরকারও এই ধরণের আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে, কারণ তা তাদের স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ফ্রেডেরিকসেনের বক্তব্যে দেখা যায়, ডেনমার্কের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা আলোচনায় অংশ নিতে ইচ্ছুক, যতক্ষণ না তা সার্বভৌমত্বের ক্ষতি না করে।
ট্রাম্পের উল্লেখিত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি যদি সফল হয়, তবে এটি আর্কটিকের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। বিশেষ করে খনি সম্পদ, সামুদ্রিক পথ এবং সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নতুন নীতি নির্ধারণের সম্ভাবনা থাকবে।
অন্যদিকে, ডেনমার্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে, তবে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে আলোচনার জটিলতা বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প ও রুটের এই আলোচনার ফলাফল আর্কটিকের নিরাপত্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে ডেনমার্কের স্বার্থ রক্ষার জন্য অতিরিক্ত সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে এবং ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং আর্কটিকের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



