লন্ডনের এবি রোড স্টুডিওতে নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহের মধ্যে ২৩টি ট্র্যাকের সমন্বয়ে একটি দানমূলক অ্যালবাম রেকর্ড করা হয়। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল ওয়ারচাইল্ড সংস্থার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের শিশুদের সহায়তা করা।
অ্যালবামের রেকর্ডিংয়ে উপস্থিত ছিলেন দ্য লিবারটিন্সের কার্ল বারাট, পুলের সদস্যরা, এবং তরুণ গায়িকা অলিভিয়া রড্রিগো। স্টুডিওর ক্যাফেটেরিয়ায় দেমন আলবার্ন এবং অন্যান্য শিল্পী গভীর আলোচনায় মগ্ন ছিলেন, আর পাশের কক্ষগুলোতে লাসাগ্না অপেক্ষা করছিল।
অ্যালবামের ট্র্যাকলিস্টে ইন্ডি রকের প্রধান নামগুলো অন্তর্ভুক্ত, যেমন ওয়েট লেগ, দ্য লাস্ট ডিনার পার্টি, উলফ অ্যালিস, ফন্টেইনস ডি.সি., নিলুফের ইয়ান্যা, ক্যামেরন উইন্টার, ইজরা কালেকটিভ, ফোলস এবং ইয়াং ফাদার্স। এই শিল্পীরা একসাথে কাজ করে এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যালবামের মূল রেকর্ডিং সম্পন্ন করেন।
রেকর্ডিংয়ের সময় এবি রোডের পাঁচটি স্টুডিও একসাথে ব্যবহার করা হয়, ফলে একাধিক সেশন সমান্তরালে চলতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লারের গ্রাহাম কোক্সন অলিভিয়া রড্রিগোর সঙ্গে দ্য ম্যাগনেটিক ফিল্ডসের “দ্য বুক অব লাভ” গানের কভার গিটারে বাজিয়ে সহযোগিতা করেন। একই সময়ে দেমন আলবার্নের সেশনে জনি মারকে গিটারে যুক্ত করা হয়, এবং কায়ে টেম্পেস্ট ও গ্রীয়ান চ্যাটেনের কণ্ঠস্বরও শোনা যায়।
একটি আকস্মিক মুহূর্তে, পুলের জার্ভিস কপার যখন বাথরুম থেকে ফিরে আসেন, তখন তিনি দেখেন যে সব শিল্পী তার স্টুডিওতে একত্রিত হয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ তাদেরকে নতুন পুল গানের “বেগিং ফর চেঞ্জ” এর সূচনা অংশ গাইতে উৎসাহিত করেন। কপার হাসি দিয়ে জানান, “এগুলো হঠাৎই এসে গিয়েছিল, তাই ভাবলাম কেন না?” এবং সবাই একসাথে গানের প্রথম লাইন গাইতে শুরু করে।
এই অ্যালবামটি ১৯৯৫ সালের “হেল্প!” অ্যালবামের আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত। সেই সময়ের মূল অ্যালবামে পল ওয়েলার, রেডিওহেড, সুইড, পল ম্যাককার্টনি, কে.এল.এফ., পোর্টিসহেড এবং দ্য ম্যানিক স্ট্রিট প্রেচার্সের মতো বিশাল নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষ করে, ওয়েসিস এবং ব্লার একসাথে একই রেকর্ডে কাজ করেছিল, যা তাদের ঐতিহাসিক চার্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরপরই ঘটেছিল।
সেই সময় নোয়েল গ্যালাহার উল্লেখ করেন, “আমরা এই কাজের জন্য আমাদের পার্থক্যগুলো পেছনে রাখি, এবং এটাই একমাত্র সময় যখন আমরা একমত হতে পারি।” এই ঐতিহাসিক সহযোগিতা অ্যালবামের বিক্রয়েও প্রতিফলিত হয়। প্রথম সপ্তাহে ৭০,০০০ কপি বিক্রি হয়ে প্রায় £১.২৫ মিলিয়ন সংগ্রহ করা যায়, যা সরাসরি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের শিশুদের সহায়তায় ব্যয় হবে।
অ্যালবামের রেকর্ডিং প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, বিভিন্ন শৈলী ও প্রজন্মের শিল্পীরা একত্রিত হয়ে সৃজনশীলতা ও মানবিক দায়িত্বের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। এবি রোডের ঐতিহ্যবাহী স্টুডিওগুলোতে একসাথে কাজ করা এই প্রকল্পটি সঙ্গীত জগতে সহযোগিতার নতুন মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ওয়ারচাইল্ডের জন্য সংগৃহীত তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে আরও এমন দানমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সঙ্গীতের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
সারসংক্ষেপে, লন্ডনের এবি রোডে এক সপ্তাহের মধ্যে সংগৃহীত এই দানমূলক অ্যালবাম, বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে তৈরি, এবং ওয়ারচাইল্ডের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।



