নভেম্বর মাসে একটি লিঙ্কডইন পোস্টে মেনোপজের পূর্বপর্যায়ে দেখা মস্তিষ্কের ধোঁয়াশা (ব্রেইন ফগ) সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়। এই সংক্ষিপ্ত নোটটি মাত্র দশ মিনিটে রচিত হলেও, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে বিপুল প্রতিক্রিয়া পায়।
লিঙ্কডইনে পোস্টটি প্রকাশের পর প্রায় চারশতটি মন্তব্য, শতাধিক ব্যক্তিগত বার্তা এবং বিসি নিউজের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধের নিচে আরও বহু মন্তব্য জমা হয়। এই পরিমাণের প্রতিক্রিয়া লেখকের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং একটি জাতীয় স্তরের আলোচনার সূচনা করে।
প্রতিক্রিয়াকারীরা প্রায়ই লেখকের সাহসের প্রশংসা করে এবং মস্তিষ্কের ধোঁয়াশা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানায়। অনেকেই এটিকে একটি স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সমস্যার স্বীকৃতি হিসেবে দেখে, যা আগে গোপনীয়তা ও লজ্জার ছায়ায় লুকিয়ে ছিল।
লেখক নিজে এই প্রশংসা নিয়ে অতিরিক্ত গর্ব বোধ করেন না; বরং তিনি লক্ষ্য করেন যে মেনোপজ ও পারিমেনোপজের কিছু লক্ষণ এখনও সামাজিক কলঙ্কের মুখে। এই কলঙ্কের ফলে প্রায় অর্ধেক নারী, যাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হন, তাদের অভিজ্ঞতা গোপন রাখতে বাধ্য হন।
বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্বও মেনোপজের বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক টেলিভিশন হোস্ট, চলচ্চিত্র তারকা এবং অন্যান্য পরিচিত মুখ মেনোপজের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে জনসাধারণের সামনে তাদের গল্প শেয়ার করেছেন।
২০১৮ সালে একটি বিশিষ্ট অভিনেত্রী মেনোপজের ধারণা পুনঃব্র্যান্ড করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে স্বাস্থ্য নীতি ও জনসচেতনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এই ধরনের প্রচেষ্টা মেনোপজকে রোগ নয়, বরং একটি স্বাভাবিক জীববৈজ্ঞানিক পর্যায় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সহায়তা করে।
ইংল্যান্ডের এনএইচএস এখন থেকে ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে নারী রোগীদের জন্য মেনোপজ স্ক্রিনিংকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। এই পদক্ষেপটি এই বছর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং মেনোপজের প্রাথমিক লক্ষণ সনাক্তকরণে সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে, কর্মস্থলে মেনোপজ সংক্রান্ত নীতি সংস্কারও শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান সম্পর্ক আইন অনুযায়ী, ২৫০ কর্মী বা তার বেশি নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে মেনোপজ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এই বিধি এপ্রিল ২০২৭ থেকে বাধ্যতামূলক হবে, তবে এই এপ্রিল থেকে স্বেচ্ছায় প্রয়োগ করা যাবে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একটি স্ব-নির্বাচিত জরিপে প্রায় ১,৬০০ নারী অংশগ্রহণ করেন। অক্টোবর মাসে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৫% এর বেশি নারী মেনোপজ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তথ্যের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
অনেক নারী এখনও মেনোপজ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে অনিচ্ছুক, কারণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও নেতিবাচক। কর্মক্ষেত্র, পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের মধ্যে এই বিষয়টি উন্মুক্তভাবে আলোচনা করা কঠিন হয়ে থাকে, যা মানসিক চাপ বাড়ায়।
একজন ষাটের দশকের একাডেমিক, যিনি সামাজিক নীতি বিষয়ে গবেষণা করেন, তিনি মেনোপজকে হালকা করে বলার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে রসিকতা করে বলেন যে, “মেনো” শব্দটি ব্যবহার করে তিনি নিজে এবং আশেপাশের মানুষকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছেন।
এইসব ঘটনা ও নীতি পরিবর্তন একত্রে ইঙ্গিত করে যে, মেনোপজ সংক্রান্ত সচেতনতা ও সমর্থন ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তথ্যের ঘাটতি, সামাজিক কলঙ্ক এবং যথাযথ নীতি বাস্তবায়নের অভাব একসাথে কাজ করে নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।
সুতরাং, মেনোপজ সম্পর্কে সঠিক তথ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানো, কর্মস্থলে সহায়ক পরিবেশ গঠন এবং গোপনীয়তা ভাঙার জন্য সমাজের সকল স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। আপনি কি আপনার কর্মস্থল বা পরিবারে মেনোপজ নিয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য প্রস্তুত?



