২০২৩ সালে পাকিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে একটি গন্ডোলা দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আটজন যাত্রী—এর মধ্যে ছয়জন স্কুলের ছাত্র—প্রায় ৯০০ ফুট উচ্চতায় একটি গর্জে আটকে যায়। তিনটি সাপোর্ট কেবল থেকে দুটো হঠাৎ ছিন্ন হয়ে গন্ডোলার ভাসমান অবস্থা সৃষ্টি করে, ফলে যাত্রীরা এক সূক্ষ্ম তারে ঝুলে থাকে। ঘটনাস্থলটি কঠিন ভূখণ্ডে অবস্থিত, যা তৎকালীন উদ্ধার কাজকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় রেসকিউ টিম এবং সামরিক বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে যাত্রীদের নিরাপদে তোলা হয়। রেসকিউ কর্মীরা ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, এবং শেষ পর্যন্ত গন্ডোলার কাঠামোকে স্থিতিশীল করে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে দুইজনের গন্ডোলার ভিতরে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়, যা তাদের জন্য মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা ছিল।
এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পরিচালক মোহাম্মদ আলি নাকভি ২০২৬ সালে ‘হ্যাংগিং বাই এ ওয়্যার’ শিরোনামের একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেন। ছবিটি মোহাম্মদ আলি নাকভি এবং বিলাল সামি একসাথে রচনা করেছেন এবং মোট ১ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের দৈর্ঘ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক সানডান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব সিনেমা ডকুমেন্টারি বিভাগে এই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়।
ডকুমেন্টারিটি মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত: সরাসরি সাক্ষাৎকার, পুনর্নির্মাণ দৃশ্য এবং ঘটনাস্থলের প্রকৃত চিত্র। সাক্ষাৎকারে মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে, তবে সেগুলোকে পুনরায় গঠন করে বর্ণনা করা হয়েছে। পুনর্নির্মাণ অংশে গন্ডোলার ভাঙা কেবল এবং ঝুলন্ত অবস্থার দৃশ্যগুলোকে নাট্যগতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকের মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।
চিত্রগ্রহণের ক্ষেত্রে, ঘটনাস্থলের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ঝাপসা ভিডিও এবং ড্রোনের উচ্চ রেজোলিউশন শটগুলোকে সংযোজিত করা হয়েছে। ড্রোন শটগুলোতে গন্ডোলার আশেপাশের সবুজ পাহাড়ি প্রান্তর, তুষারাচ্ছন্ন শীর্ষ এবং গর্জের গভীরতা স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা ঘটনার ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটকে দৃশ্যমান করে। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো দর্শকের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগের অনুভূতি জাগায়।
চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকের মধ্যে তীব্র সাসপেন্স সঙ্গীত এবং টিক-টিক করে চলা সময়সূচি নির্দেশক শিরোনাম কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এই উপাদানগুলো চলচ্চিত্রকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও আকর্ষণীয় করতে পরিকল্পিত বলে মনে হয়। যদিও সঙ্গীতের তীব্রতা কখনও কখনও অতিরিক্ত মনে হতে পারে, তবু এটি ঘটনার জরুরি স্বভাবকে জোরদার করে।
সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে ছবিটি মূলত একটি রোমাঞ্চকর বাঁচার গল্প হলেও বর্ণনায় গভীরতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অভাব রয়েছে। ডকুমেন্টারির কাঠামো বেশিরভাগই অন্যান্য সমসাময়িক ডকু-থ্রিলার চলচ্চিত্রের নকলের মতো, যা মূল বিষয়বস্তুকে যথাযথভাবে আলোকিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি ছবিটি আরও পরিশীলিতভাবে নির্মিত হতো এবং অতিরিক্ত বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ যুক্ত হতো, তবে তা থিয়েটার নয়, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আরও সফল হতে পারত।
সারসংক্ষেপে, ‘হ্যাংগিং বাই এ ওয়্যার’ একটি চমৎকার রেসকিউ ঘটনার রেকর্ড, তবে বর্ণনায় যথেষ্ট গভীরতা না থাকায় তা সম্পূর্ণভাবে সন্তোষজনক নয়। দৃশ্যমান উপাদান ও বাস্তব ভিডিওগুলো দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে, তবে গল্পের কাঠামো ও সঙ্গীতের অতিরিক্ত ব্যবহার কখনও কখনও মনোযোগকে বিচ্ছিন্ন করে।
এই ডকুমেন্টারিটি দর্শকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় কিন্তু অসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। গন্ডোলার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বাস্তব চিত্র এবং উদ্ধারকর্মীর তৎপরতা প্রশংসনীয়, তবে চলচ্চিত্রের বর্ণনামূলক দিকটি আরও সমৃদ্ধ হলে তা দর্শকের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারত। বর্তমান রূপে এটি একটি ভাল রেসকিউ গল্প, তবে আরও গভীর বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম গল্প বলার মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হতে পারত।



