ইউরোপা লীগ শেষ-১৬ রাউন্ডে টার্কির সুকরু সারাজোগলু স্টেডিয়ামে আয়োজিত ম্যাচে আস্টন ভিলা ১-০ স্কোরে এফেনারবাহচে পরাজিত করে টপ-এটের স্থান নিশ্চিত করেছে। জেডন স্যাঞ্চোর প্রথম গোলই দলকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভিলার কোচ উনাই এমেরি এবং মিডফিল্ডার ইউরী টাইলেম্যানের মধ্যে টাচলাইন স্প্যাটের খবরও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিলার এই জয় তাদের এই মৌসুমের ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি জয় অর্জনের ধারাকে অব্যাহত রাখে এবং এফেনারবাহচের ঘরে অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার রেকর্ডকে শেষ করে। গেমের শুরুতে উভয় দলে আঘাতের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ভিলা দ্রুতই আক্রমণাত্মক চাপ তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত স্যাঞ্চোর গোলের রূপ নেয়।
২৫তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র স্কোরের সূত্রপাত হয়। ম্যাটি ক্যাশের বামফ্ল্যাঙ্ক থেকে কিকের পরে ইসমাইল ইউকসেকের মাথা থেকে বলটি স্যাঞ্চোর দিকে লাফিয়ে যায়। স্যাঞ্চো হেড করে এডারসনের গলপোস্টের পিছনে বলটি গড়িয়ে দেয় এবং ভিলাকে প্রথমার্ধে ১-০ এগিয়ে রাখে। গোলের পর ভিলার আক্রমণ চালু থাকে, তবে মিলান স্ক্রিনিয়ার শেষ মুহূর্তে হিরোইক ব্লক করে স্যাঞ্চোর সম্ভাব্য দ্বিগুণ স্কোর রোধ করে।
মর্গান রজার্সের একটি অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হওয়ার পরেও ভিলার আক্রমণ থেমে না। রজার্সের ব্যাকহিল পাসে অলি ওয়াটকিন্সের শটটি মের্ট মুলদুরের হ্যান্ডে আটকে যায়। একই সময়ে কেমার আকতুরকোগলু সমান স্কোর করার চেষ্টা করে, তবে ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপে গোলটি রদ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে গেমের তীব্রতা বাড়ে। এফেনারবাহচের গলকিপার মার্কো বিজট, এমি মার্টিনেজের অনুপস্থিতিতে আটটি সেভ করে ভিলার একক গোলকে রক্ষা করে। বিশেষ করে টালিস্কা থেকে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক শটের সময় বিজটের চমকপ্রদ সেভটি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
ম্যাচের শেষের দিকে টাইলেম্যানকে পরিবর্তন করার সময় উনাই এমেরি এবং টাইলেম্যানের মধ্যে একটি তীব্র সংলাপ দেখা যায়। টাইলেম্যান মাঠ ছাড়ার সময় এমেরি তাকে ধাক্কা দেন বলে ধারণা করা হয়, তবে এমেরি পরে হালকা হাসি দিয়ে মন্তব্য করেন যে টাইলেম্যানকে তিনি নিজের সন্তান হিসেবে দেখেন। এই ঘটনার পর টাইলেম্যান শান্তভাবে মাঠ ছেড়ে যায়।
ভিলার জয় তাদের ইউরোপা লীগ যাত্রার পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের পথ সুগম করে। দলটি এখন টপ-এটের মধ্যে অবস্থান করে, যা পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়। গেমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভিলার গোলকিপার বিজটের আটটি সেভ এবং স্যাঞ্চোর একমাত্র গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
এই ম্যাচে ভিলার আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতা, রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা এবং এমেরির তীব্র কোচিং স্টাইলের সমন্বয় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এফেনারবাহচের ঘরে অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার রেকর্ড ভেঙে যাওয়া এবং ভিলার টপ-এটের স্থান নিশ্চিত হওয়া দুটোই ইউরোপা লীগে এই সিজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রেকর্ডে থাকবে।



