লস এঞ্জেলেসে বুধবার অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ারে সাম রেইমি পরিচালিত নতুন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘সেন্ড হেল্প’ প্রকাশ পেয়েছে। র্যাচেল ম্যাকডামস ও ডিলান ও’ব্রায়েন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন; এক বিমান দুর্ঘটনার পর দুজনই নির্জন দ্বীপে আটকে যায়, যেখানে তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই ধীরে ধীরে রক্তাক্ত সংঘাতে রূপ নেয়।
ফিল্মটি রেইমির প্রায় দুই দশকের পর হরর (বা হরর‑সদৃশ) ধারায় ফিরে আসা চিহ্নিত করে। রেইমি উল্লেখ করেন, ম্যাকডামসের পূর্বে অন্ধকার চরিত্রে কাজের অভাব তাকে এই ভূমিকায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। তিনি একই সঙ্গে তার কমেডি দক্ষতাকে প্রশংসা করেন, যা চলচ্চিত্রের টোনকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
চলচ্চিত্রের কাহিনী একটি নারীর (ম্যাকডামস) এবং তার লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক বস (ও’ব্রায়েন) এর মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। দুজনই বিমান দুর্ঘটনার পর অচেনা দ্বীপে আটকে যায়, যেখানে বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকে একে অপরের দুর্বলতা ও শক্তি উন্মোচন করতে হয়। গল্পের অগ্রগতিতে রক্তপাত ও অন্ধকারের দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে বাড়ে, যা দর্শকের মধ্যে উত্তেজনা জাগিয়ে তোলে।
সহ-লেখক মার্ক স্বিফটের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও চলচ্চিত্রের পটভূমিতে প্রভাব ফেলেছে। তিনি একসময় আইন সংস্থা ও চলচ্চিত্র স্টুডিওতে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে কঠোর বসের মুখোমুখি হতে হতো। স্বিফট জানান, তিনি কিউবিকলে কাজের সময় বসের সঙ্গে পাল্টা অবস্থান কল্পনা করতেন, যদিও তা সরাসরি চলচ্চিত্রের ধারণা নয়, তবে তার মানসিক চাপ তাকে দ্বীপে বসের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার কল্পনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
রেইমি আরও উল্লেখ করেন, যদিও তার বেশিরভাগ বস সহায়ক ছিলেন, তবে তার প্রযোজক জয়নাব আজিজি হলিউডের বড় এজেন্সিগুলোর কাজের পরিবেশ সম্পর্কে গল্প শেয়ার করেন। তিনি বলেছিলেন, অফিসে পুরুষ কর্মীরা প্রায়শই নারীদের কাজের স্বীকৃতি না নিয়ে নিজেরা ক্রেডিট নেয়, যা কর্মস্থলে ন্যায়বিচারের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের থিমে যুক্ত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও লিঙ্গ বৈষম্যকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
‘সেন্ড হেল্প’ চলচ্চিত্রটি রেইমির হরর ধারার পুনরাগমনের পাশাপাশি আধুনিক কর্মস্থলের গোপন সমস্যাগুলোকে কল্পনাপ্রসূতভাবে উপস্থাপন করেছে। রেইমি বিশ্বাস করেন, সব অভিনেতা-অভিনেত্রীরই ভেতরে কোনো না কোনো “মনস্টার” থাকে, যা তারা চরিত্রে প্রকাশ করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ম্যাকডামসকে এমন ভূমিকায় নির্বাচন করেছেন, যেখানে তার নতুন দিকটি দর্শকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে।
চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিল্পের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। রেইমি ও তার দল চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক দিক নিয়ে আলোচনা করেন, এবং উল্লেখ করেন যে দ্বীপের একাকিত্ব ও বেঁচে থাকার সংগ্রামকে বাস্তব কর্মস্থল সংঘাতের রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘সেন্ড হেল্প’ এখন থেকে থিয়েটার ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে, এবং দর্শকদেরকে কর্মস্থলের ক্ষমতার গতি ও লিঙ্গ বৈষম্যের উপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি রেইমির হরর-সদৃশ শৈলীর পুনরায় উদ্ভাবন এবং আধুনিক সামাজিক সমস্যার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণকে একত্রিত করে, যা সমসাময়িক দর্শকের জন্য আকর্ষণীয় ও চিন্তাশীল হবে।



