গুরুত্বপূর্ণ দুইজন বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিহত, লালমোহন গজারিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটেছে। ৪৫ বছর বয়সী আবু তাহের মাতাব্বর এবং তার ৫৮ বছর বয়সী ভগ্নিপতি মো. অলি উল্যাহ, দুজনই একই সময়ে গজারিয়া বাজার থেকে কর্তারহাটের একটি মাহফিলে অংশ নিতে রওনা হন। দুজনই মোটরসাইকেলে যাত্রা করছিলেন এবং যাত্রাপথে জাদাহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের কাছাকাছি একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে যান।
সংঘর্ষের ফলে বাসটি উভয় সাইড থেকে ধাক্কা খেয়ে দুজনকে চেপে ফেলেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রথম সাহায্যকারী ও সিভিল রেসকিউ দল দ্রুত আহতদের তত্ত্বাবধান করে, তবে দুজনই গুরুতর আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে; উভয়েরই গজারিয়া গজারিয়া এলাকায় বাড়ি রয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা রাগে জ্বলে উঠেন। কিছু সময়ের মধ্যেই তারা বাসের ওপর আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত কাজ করে, আগুন নিভিয়ে বাসটি নিরাপদে স্থানান্তর করে এবং পরে তা থানা তত্ত্বাবধানে নিয়ে যায়।
লালমোহন থানার ওয়ানচিফ অফিসার মো. অলিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ现场ে পৌঁছায়, ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়ে আগুন নিভাতে সহায়তা করে এবং বাসটি থানা তত্ত্বাবধানে নিয়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনার আইনি দিকটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত গাড়ি ও রাইডারদের রুট পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। এছাড়া, বাসের চালক ও যাত্রীবাহী গাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য গাড়ি চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড, সিটিবি ফুটেজ এবং গवाहীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় রাস্তায় অল্প আলো ছিল এবং দুজনের গতি দ্রুত ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট গতি ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও গাড়ি রেকর্ডের পর্যালোচনা প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি শোকের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে। দুজনের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি, বাসের চালক ও যাত্রীবাহী গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রাস্তায় নিরাপত্তা বিধি মানার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে রাস্তায় গতি সীমা, সিগন্যালের সঠিক ব্যবহার এবং যাত্রীবাহী গাড়ির নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। বর্তমানে, মৃতদের পরিবারকে সহায়তা ও শোকের সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় প্রভাবিত সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় গতি ও অযৌক্তিক আচরণ বন্ধ করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি চালু করবে।



