ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রতীক ঘোষিতের পরপরই, ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রার্থী ও সমর্থকরা মাঠে নেমে প্রচার চালু করেছে। প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে।
বিএনপি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিপক্ষকে সমালোচনা করার চেষ্টা করেছে, তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি তৎক্ষণাৎ পাল্টা অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করেছে। উভয় দিকের এই তীব্রতা নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবারের প্রচারসূচিতে প্রার্থী ও সমর্থকরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন, ভোটারদের কাছে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও সামাজিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেছে যে, প্রচারকালে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছে। কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো ‘অসহনীয় মনোভাব’ দেখা যায়নি, তবে মিরপুরে জামায়াত‑বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ঘটিত ‘গোলযোগ’ ঘটনা ব্যতীত।
কমিশনারের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সব দলই প্রচারে শালীনতা বজায় রাখছে, কোনো আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে না। দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কোনো ঝামেলা না ঘটানো হবে। যদিও কিছু টুকটাক হতে পারে, তবে আমরা তা প্রত্যাশা করছি না। আমরা একসাথে সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব।”
এই মন্তব্যের পরেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সব দল ও প্রার্থী আইন‑শৃঙ্খলা মেনে চলবে এবং নির্বাচনী বিধি‑নিষেধের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সকল প্রার্থী শৃঙ্খলা রক্ষা করে ভোটারদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ বজায় রাখবে।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি, সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভোটার ও কর্মচারীরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। এই ছুটির মাধ্যমে ভোটের দিনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন‑শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করেছে। এই সেল নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মতে, এইবারের নির্বাচন প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইন‑শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। এতে অন্তত দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য থাকবে, যা ব্যালট পেপার চুরি বা অন্য কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা কমাবে।
প্রচারের সময়সূচি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত চলবে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক মনোভাব, সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শালীন প্রচার একত্রে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে বর্তমান পর্যায়ে সকল পক্ষের সহযোগিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা নির্বাচনের সাফল্যের ভিত্তি হবে।



