কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে আজ রাত ১২:৪৫ টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে পার্টির প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। তিনি পাঁচজন স্থানীয় প্রার্থীর নাম তুলে ধরে, তাদের জয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের দায়িত্বের কথা জোর দিয়ে বলেন যে, জয়লাভের পরেই তারা তাদের কাজের হিসাব দিতে বাধ্য হবে।
রাহমানের বক্তব্যে তিনি পাঁচজন প্রার্থীর প্রতি ভোটারদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। “আমি এই পাঁচজনকে আপনার হাতে দিচ্ছি। তাদের জয়লাভের মাধ্যমে আপনি তাদেরকে আপনার এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য জবাবদিহি করতে পারবেন। আপনার সমস্যার সমাধান চাওয়ার অধিকার আপনারই থাকবে,” তিনি বলেন।
এছাড়া তিনি ভোটারদের নিজস্ব দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ভোটারদের দায়িত্ব আছে। আমরা সবাই মিলে দেশের গড়ে তোলায় কাজ করতে হবে। আমরা একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়েছি, তাই না?” এই কথায় তিনি পার্টির ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মরণ করিয়ে দেন।
বিএনপি সরকার গঠিত হলে যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো সম্ভব হবে, তা রাহমান বিশদে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “নাল খনন, পরিবারিক কার্ডের বিতরণ, কৃষকের কার্ড, ইমাম ও খাতিবের সম্মানসূচক ব্যবস্থা—এগুলো সবই শস্যের গাঁথা (পেডি) ভোটের মাধ্যমে সম্ভব হবে।” এরপর তিনি স্থানীয় অবকাঠামো ও জনসেবা উন্নয়নের জন্য ভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। “রাস্তা মেরামত, স্কুল ও কলেজের উন্নতি, হাসপাতালের ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থা—এগুলো সবই শস্যের গাঁথা জয়লাভের পরই বাস্তবায়িত হবে,” তিনি জোর দেন।
ভোটারদের সতর্কতা বজায় রাখতে রাহমান বিশেষ আহ্বান জানান। “প্রথমে আপনাকে ভোট দিতে হবে, শস্যের গাঁথা চিহ্নে ভোট দিন। এরপর আপনার চোখ ও কান খোলা রাখুন, সতর্ক থাকুন,” তিনি বলেন। এই আহ্বান ভোটের দিন নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
রাহমানের র্যালিতে তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত চার ঘণ্টায় যাত্রা করা যাত্রাপথের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “প্রায় দুই দশক আগে চার ঘণ্টায় যাত্রা হতো, এখন একই পথে দশ ঘণ্টা লাগে,” তিনি উল্লেখ করে দেশের সড়ক অবস্থা উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিএনপি-র কিশোরগঞ্জের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত হলেন মজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, এবং আইনজীবী মোঃ জালাল উদ্দিন, যিনি কিশোরগঞ্জের অন্য একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রাহমানের মতে, এই দুই প্রার্থীর জয়লাভই পার্টির সমগ্র উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নের চাবিকাঠি।
বিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ভোটারদেরকে তাদের নিজস্ব উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বলছে। তবে রাহমানের র্যালি থেকে স্পষ্ট যে, তিনি ভোটারদেরকে শস্যের গাঁথা (বিএনপি) ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে কিশোরগঞ্জে এই র্যালি ভোটারদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে এবং পার্টির স্থানীয় সংগঠনের সক্রিয়তা বাড়িয়েছে। রাহমানের বক্তৃতা ভোটারদেরকে পার্টির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজের জন্য শস্যের গাঁথা ভোট দিতে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে ছিল। ভবিষ্যতে কিশোরগঞ্জের ভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে রাহমানের এই প্রচারণা পার্টির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



