সংসদ ও গণভোটের প্রস্তুতি চলাকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ভবনে একটি ব্রিফিংয়ে মোবাইল‑ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংক্রান্ত সরকারের দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেন। তিনি জানালেন, নির্বাচনের দিনগুলোতে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে না, তবে সেবার পরিধি সীমিত করা হবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সেবার কাঠামো সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে নীতিগতভাবে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ একমত যে নির্দিষ্ট ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মতো সময়সীমা নির্ধারণ করে লেনদেন বন্ধের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং লেনদেনের পরিমাণে সীমা আরোপ বা নির্দিষ্ট গ্যাপ তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন সীমাবদ্ধতার পেছনে অতীতের অভিজ্ঞতা রয়েছে; পূর্বে অবৈধ লেনদেন রোধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সচিব এ বিষয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না দিয়ে শুধুই পরিকল্পনার দিকটি তুলে ধরেন।
ব্রিফিংয়ের আগে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়‑বিভাগ ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকালবেলায় বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা, দুপুরে বিএনসিসি ও এমএফএস সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আখতার আহমেদ জানান, এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮৩টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে অংশগ্রহণ। এছাড়া ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এবং ৭৮ জন পর্যবেক্ষকও উপস্থিত হতে ইচ্ছুক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫৮ জনের কাছাকাছি, এবং মোট পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ৩০০ এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পর্যবেক্ষকগণ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ফরম্যাটে অংশগ্রহণ করবেন।
ভোটের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ১৬,০০০ এর বেশি সদস্যকে নিয়োগ করা হবে। তবে তাদের দায়িত্ব, অবস্থান এবং কমান্ড কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি; রোববারের বৈঠকে এ বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে।
গণনা প্রক্রিয়ার সময়সীমা সম্পর্কে সচিবের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, ভোটাররা দুইটি ব্যালটে ভোট দেবেন, যার মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের গণনা অন্তর্ভুক্ত। এই দ্বিগুণ ব্যালট ব্যবস্থা এবং একাধিক আসনের সমন্বয় গণনা প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘতর করবে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্তরে গণনা দ্রুত সম্পন্ন হবে, তবে রিটার্নিং অফিসার যেসব কেন্দ্রের দায়িত্বে একাধিক আসন থাকবে, তাদের ক্ষেত্রে গণনা সময় বাড়বে। এই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা সকল সংশ্লিষ্টকে বিবেচনা করতে হবে।
সচিবের মতে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে এই গণনা প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু সমাপ্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ফলাফলের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকে।
নির্বাচন কমিশনের এই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ ও প্রযুক্তিগত সেবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।



