ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি দাভোসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিরাপত্তা গ্যারান্টি সংক্রান্ত নথি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। এই নথি ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থনকে অন্তর্ভুক্ত করে। শীর্ষ সম্মেলনের পরপরই জেলেনস্কি এই বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
দাভোসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এবং জেলেনস্কি দীর্ঘ আলোচনা শেষে নথির বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার কথা জানান। দু’পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা গ্যারান্টি, সামরিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমর্থনের শর্তাবলী নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, এই নথি এখনো স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত, তবে চূড়ান্ত স্বাক্ষর যুদ্ধের সমাপ্তির পরই সম্ভব হবে।
জেলেনস্কি বলেন, “নথির কাজ শেষ হয়েছে, এখন আমাদের এটি সই করতে হবে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুদ্ধ থামার আগে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে না। এই শর্তটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদানকে যুদ্ধের সমাপ্তির সাথে যুক্ত করে। তাই নথি স্বাক্ষরকে যুদ্ধের সমাপ্তি একটি পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
নথির স্বাক্ষর কেবল তখনই হবে যখন শত্রু সংঘর্ষ বন্ধ হবে, এটাই জেলেনস্কির মূল বক্তব্য। তিনি যোগ করেন, স্বাক্ষরের পর নথিটি উভয় দেশের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। উভয় পক্ষের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরই নথির বৈধতা নিশ্চিত করবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইউক্রেনের সরকার পূর্বে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আক্রমণ রোধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি চেয়েছিল। এই চাহিদা কেবল সামরিক সহায়তা নয়, রাজনৈতিক সমর্থনও অন্তর্ভুক্ত করে। জেলেনস্কি এই গ্যারান্টি না পেলে দেশের নিরাপত্তা কৌশল সম্পূর্ণ হবে না বলে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদানকে যুদ্ধের সমাপ্তি শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্পের দল জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় জোর দিয়েছে যে, যুদ্ধ থামা না পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে না। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকরা দাভোস বৈঠকে ট্রাম্প-জেলেনস্কি আলোচনাকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা বলেন, নথির চূড়ান্ত রূপ পেয়ে এখনো স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের স্তর বাড়বে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যুদ্ধের অবস্থা পরিবর্তন হলে স্বাক্ষরের সময়সূচি পুনরায় নির্ধারিত হতে পারে।
নথির স্বাক্ষর এবং পরবর্তী পার্লামেন্টের অনুমোদন ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও প্রভাব ফেলবে। যদি নথি সফলভাবে অনুমোদিত হয়, তা ইউক্রেনের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে, এটি ইউক্রেনের সরকারকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দরকষাকষির ক্ষমতা প্রদান করবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই গ্যারান্টি নথি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি সূচক হতে পারে। স্বাক্ষর যুদ্ধের সমাপ্তি শর্তে করা হলে, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার গতি বাড়তে পারে। তবে যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান বিলম্বিত হতে পারে, যা ইউক্রেনের কৌশলগত পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা করা হবে। স্বাক্ষরের পর নথি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে যুক্ত হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।
সারসংক্ষেপে, দাভোসে ট্রাম্প-জেলেনস্কি আলোচনার পর নিরাপত্তা গ্যারান্টি নথি চূড়ান্ত হয়েছে, তবে যুদ্ধের সমাপ্তি শর্তে স্বাক্ষর হবে। নথির অনুমোদন ইউক্রেনের নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে নথির স্বাক্ষর ও পার্লামেন্টের অনুমোদন কীভাবে ঘটবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশের দিক নির্ধারণ করবে।



