সিলিকন ভ্যালির নতুন স্টার্টআপ Humans& এই সপ্তাহে $৪৮০ মিলিয়ন সিড ফান্ডিং নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠাতা দল Anthropic, Meta, OpenAI, xAI এবং Google DeepMind‑এর প্রাক্তন কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত, এবং তারা মানব‑এআই সমন্বয়ের জন্য একটি ভিত্তিমূলক মডেল তৈরি করতে চায়। কোম্পানির লক্ষ্য হল একাধিক ব্যবহারকারী ও টিমের মধ্যে জটিল কাজের সমন্বয়কে সহজ করা, যা বর্তমান চ্যাটবটের একক‑ব্যবহারকারী সহায়তার সীমা অতিক্রম করবে।
বর্তমান এআই সিস্টেমগুলো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, নথি সংক্ষেপণ করা এবং গাণিতিক সমস্যার সমাধানে দক্ষ, তবে তারা দলগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার সমন্বয়, দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত ট্র্যাকিং এবং টিমের সামঞ্জস্য বজায় রাখার মতো কাজগুলোতে সীমাবদ্ধ। Humans& এই ফাঁক পূরণে ‘কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র’ হিসেবে কাজ করবে এমন একটি মডেল তৈরি করতে চায়, যা মানব ও এআই সহযোগিতার নতুন অর্থনীতিকে সমর্থন করবে।
প্রতিষ্ঠাতাদের মতে, এআই প্রযুক্তি এখন প্রথম পর্যায়ের স্কেলিং শেষ করেছে, যেখানে মডেলগুলো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের প্রশ্ন‑উত্তরে বিশেষজ্ঞ ছিল। এখন তারা দ্বিতীয় তরঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারীকে বিশাল তথ্যের মধ্যে থেকে কীভাবে কাজ করা যায় তা নির্ধারণে সহায়তা দরকার। এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে Humans& এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে চায়, যা কেবল তথ্য পুনরুদ্ধার নয়, সামাজিক বুদ্ধিমত্তা ও সমন্বয় ক্ষমতা প্রদান করবে।
স্টার্টআপের ত্রৈমাসিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ভিত্তিমূলক মডেল প্রকাশ করা হবে, যা টিমের কাজের প্রবাহ, অগ্রাধিকার এবং সিদ্ধান্তের ইতিহাসকে একত্রে সংযুক্ত করবে। এই মডেলটি এআইকে মানবের কাজের প্রসঙ্গ বুঝতে এবং প্রাসঙ্গিক পরামর্শ দিতে সক্ষম করবে, ফলে ব্যবহারকারীরা একাধিক টুল ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে পারবে। যদিও এখনো কোনো পণ্য বাজারে প্রকাশিত হয়নি, তবু বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠাতাদের পটভূমি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে উচ্চ মূল্যায়ন করেছে।
এআই‑এর দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিগুলো চ্যাটবট থেকে এজেন্ট‑ভিত্তিক সিস্টেমে রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে মডেলগুলো যথেষ্ট সক্ষম, তবে বাস্তব কাজের প্রবাহে সমন্বয়ের অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। Humans& এই চ্যালেঞ্জকে সমাধান করে এআইকে মানবের দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে সংহত করার লক্ষ্য রাখে, যা কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা ও সিদ্ধান্তের গুণগত মান উভয়ই বাড়াবে।
বাজারে এআই‑এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা দুটোই বিদ্যমান। কিছু মানুষ এআইকে চাকরি হারানোর হুমকি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে অনেকেই এটিকে কাজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানায়। Humans& এই দ্বিমুখী অনুভূতিকে বিবেচনা করে, এআইকে মানবের ক্ষমতা বাড়ানোর সরঞ্জাম হিসেবে উপস্থাপন করছে, চাকরি প্রতিস্থাপন নয়।
স্টার্টআপের ত্রৈমাসিক লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় তহবিলের বেশিরভাগই সিড রাউন্ড থেকে আসবে, যা মূলত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমর্থন পেয়েছে। তহবিলের ব্যবহার পরিকল্পনা অনুযায়ী, গবেষণা ও উন্নয়ন, ট্যালেন্ট অর্জন এবং প্রাথমিক পাইলট প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হবে। ভবিষ্যতে পণ্য প্রকাশের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন যে প্রথম সংস্করণটি আগামী বছর শেষের দিকে ব্যবহারকারীর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে।
সারসংক্ষেপে, Humans& এআইকে মানবিক সমন্বয়ের কেন্দ্রে রাখার মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে চায়। এআই চ্যাটবটের সীমা অতিক্রম করে দলগত কাজের জটিলতা পরিচালনা করতে সক্ষম হলে, তা শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও উৎপাদনশীলতায়ও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।



