১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় পাঁচশো বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের আগমন প্রত্যাশিত, তা নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।
আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৩ জন পর্যবেক্ষককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ জন ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন অংশগ্রহণ। পাঁচটি সংস্থা থেকে প্রত্যাখ্যানের তথ্য পাওয়া গেছে, আর কিছু সংস্থার নিশ্চিতকরণ এখনও বাকি।
পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও অবজারভারের জন্যও উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৮ জন অবজারভার এবং ৫০ জন সাংবাদিক তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সরাসরি পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে চান।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এয়ারপোর্টে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে, যাতে ভিসা ও প্রবেশ সংক্রান্ত সহায়তা সহজে পাওয়া যায়। তারা মূলত ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অবস্থান করবে, যেখানে মিডিয়া সেল ও হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে সমন্বয় কাজ চালানো হবে।
আখতার আহমেদ জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং পরবর্তীতে এই সংখ্যা প্রায় ৩০০ পর্যন্ত বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে দুইজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে তারা মোট দশজনের মধ্যে অংশ নিতে পারবেন। তুরস্ক থেকে দুইজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে সম্ভবত নয়জন উপস্থিত থাকবেন।
বহু দেশে যদি ভিসা সুবিধা বা মিশন না থাকে, তবে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কোনো অসুবিধা না হয়। সব মিলিয়ে, মোট প্রায় পাঁচশো বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি প্রত্যাশিত, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক নজরদারির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
নির্বাচনের সময়কালীন মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রানজেকশনগুলো এক থেকে দুই দিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত করা হবে, তবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে না।
মোবাইল ফাইন্যান্সিং ও আই-ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনার অধীনে রয়েছে, যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি। নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেন অনুমোদিত হবে না।
এই ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন আর্থিক জালিয়াতি রোধ এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে, সীমাবদ্ধতার সময়সীমা ও প্রয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার পর, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি তাদের দল গঠন ও লজিস্টিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে এই পর্যবেক্ষক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
অবশেষে, নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী সময়ে ভোটারদের তথ্যপ্রযুক্তি সেবার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন, যাতে ভোটাররা অপ্রয়োজনীয় সমস্যার সম্মুখীন না হন।



