ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে অ্যান্টি‑সেমিটিক মন্তব্যে লাইক দেওয়ার স্ক্রিনশট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর, শিশু শিক্ষিকা র্যাচেল এক্কুর্সো (মিস র্যাচেল) ব্যাপক সমালোচনার মুখে। মন্তব্যটি “Free america from the Jews” শিরোনামে ছিল এবং একটি মুছে ফেলা পোস্টের নিচে দেখা গিয়েছিল, যেখানে “Free Palestine, Free Sudan, Free Congo, Free Iran” বাক্য ও সংশ্লিষ্ট দেশের পতাকা যুক্ত ছিল।
স্ক্রিনশটগুলো টুইটার (X) ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত শেয়ার হয়, ফলে ইহুদি অধিকার সংস্থা ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে তীব্র নিন্দা আসে। মিস র্যাচেল, যিনি ৪.৮ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ও ১৮.৬ মিলিয়ন ইউটিউব সাবস্ক্রাইবারের অধিকারী, তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, মন্তব্যটি মুছে ফেলতে গিয়ে ভুলবশত “লাইক” চাপা পড়ে এবং এটি তার মানবিক ভুলের ফল।
ভিডিওতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি মানুষ, ভুল করি। অনলাইনে আর মানুষ হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” এছাড়া তিনি নিজের বয়স ও ডিজিটাল দক্ষতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে মন্তব্য করে, “আমি বড়, আর অনলাইনে ট্যাপ করা আমার জন্য কঠিন,” বলেন। তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অন্য একটি স্ক্রিনশট প্রকাশিত হয়, যেখানে “thepalestinenewsnetwerk” নামে একটি অ্যাকাউন্ট মন্তব্য করে, “Spoiler alert: They left the comment themselves.” মিস র্যাচেল তার উত্তরে দীর্ঘায়িত “oooooooohhhhh” শব্দের সিরিজ পোস্ট করেন, যা অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিরোধী গোষ্ঠী এই বিনিময়কে অ্যান্টি‑সেমিটিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অংশ হিসেবে দেখায়। মিডিয়া পর্যবেক্ষক সংস্থা হনেস্টরিপোর্টিংও মিস র্যাচেলের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে, জানায় যে প্রমাণগুলো একক ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
মিস র্যাচেল শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কন্টেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তবে এই ঘটনার ফলে তার অনলাইন উপস্থিতি ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা এখন তার কন্টেন্টের ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন এবং সামাজিক মিডিয়ায় তার আচরণে আরও দায়িত্বশীলতা দাবি করছেন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে মন্তব্য মুছে ফেলা ও লাইক করার প্রক্রিয়া সহজ হলেও, ভুলে লাইক দেওয়া বড় জনসাধারণের ব্যক্তিত্বের জন্য তীব্র সমালোচনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যখন মন্তব্যটি জাতিগত বা ধর্মীয় ঘৃণার বিষয়বস্তু ধারণ করে, তখন তা দ্রুত বিস্তৃত হয় এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর আঘাতের কারণ হয়।
এই ঘটনায় দেখা যায়, ডিজিটাল যুগে ছোটখাটো ভুলও বড় সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। মিস র্যাচেল তার ভিডিওতে স্বীকার করেন যে তিনি প্রযুক্তিগত দিক থেকে দুর্বল এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। তবে সমালোচকরা বলেন, এই ধরনের ভুল পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য স্পষ্ট নীতি ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
ইহুদি অধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার সমর্থক গোষ্ঠী মিস র্যাচেলকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি, তার ভবিষ্যৎ কন্টেন্টে অ্যান্টি‑সেমিটিক বা অন্য কোনো ঘৃণামূলক উপাদান না থাকার নিশ্চয়তা চায়। তারা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে ঘৃণামূলক বক্তব্যের দ্রুত সনাক্তকরণ ও অপসারণের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও সক্রিয় হতে আহ্বান জানায়।
মিস র্যাচেলের কন্টেন্টের মূল উদ্দেশ্য শিশুদের শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক বিষয় প্রদান করা, তবে এই বিতর্ক তার কাজের স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। অভিভাবকরা এখন তার ভিডিও নির্বাচন করার সময় আরও সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং বিকল্প শিক্ষামূলক চ্যানেল অনুসন্ধান করছেন।
সামাজিক মিডিয়ার দ্রুত বিস্তৃতি ও তথ্যের তৎক্ষণাৎ শেয়ারিংয়ের সময়, পাবলিক ফিগারদের জন্য প্রতিটি ক্রিয়াকলাপের প্রভাব বিশাল হতে পারে। মিস র্যাচেল এই ঘটনার পর থেকে তার অনলাইন আচরণে পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সমালোচকরা তার ব্যাখ্যা যথেষ্ট না বলে দাবি করছেন।
এই বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনা ইন্টারনেটের নৈতিকতা, ঘৃণামূলক মন্তব্যের মোকাবিলা এবং পাবলিক ব্যক্তিত্বের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তৃত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, কন্টেন্ট নির্মাতা ও ব্যবহারকারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



