মেটা কোম্পানি নিউ মেক্সিকোতে একটি মামলার মুখোমুখি, যেখানে তাকে প্ল্যাটফর্মে শিশুর যৌন শোষণ রোধে অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালতের শুনানি ২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং কোম্পানির আইনজীবীরা মামলায় ব্যবহারযোগ্য প্রমাণকে সীমিত করার চেষ্টা করছে।
মামলাটি নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজ ২০২৩ সালের শেষের দিকে দায়ের করেন। তিনি মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, কোম্পানি অনলাইন শিকারী, মানব পাচার এবং যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা নাবালকদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয় হল মেটা প্ল্যাটফর্মে স্পষ্ট বিষয়বস্তু নাবালকদের কাছে পৌঁছেছে এবং সেসব বিষয়বস্তুর জন্য যথাযথ ফিল্টারিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। এই ধরনের লঙ্ঘন নাবালকদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে।
এই মামলা রাজ্য পর্যায়ে প্রথমবারের মতো শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় রেফারেন্স হতে পারে।
মেটার আইনজীবীরা মামলাটিকে যতটা সম্ভব সংকীর্ণ করতে চাচ্ছেন, যাতে বিচারক শুধুমাত্র সরাসরি অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণই বিবেচনা করেন। এ জন্য তারা বিভিন্ন ধরণের তথ্য ও গবেষণাকে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা দিয়েছে।
প্রথমে তারা সামাজিক মিডিয়ার যুবক মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব সম্পর্কিত গবেষণাকে বাদ দিতে চায়। এমন গবেষণা সাধারণত প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবং মানসিক সমস্যার মধ্যে সংযোগ তুলে ধরে, যা মেটার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চাপ বাড়াতে পারে।
এর পাশাপাশি টিনেজ আত্মহত্যা ও সামাজিক মিডিয়ার সম্পর্কিত সংবাদকেও বাদ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের কেসগুলো প্রায়শই প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা ও ব্যবহারকারীর আচরণের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে, যা মামলার পরিধি বাড়িয়ে দিতে পারে।
মেটা তার আর্থিক অবস্থা, পূর্বে ঘটিত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সিইও মার্ক জুকারবার্গের কলেজ জীবনের তথ্যকেও আদালতে উপস্থাপন না করার জন্য আবেদন করেছে। এসব তথ্যের উপস্থিতি মামলার মূল অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় বলে তারা যুক্তি দিচ্ছে।
কোম্পানি এআই চ্যাটবটের উল্লেখও বাদ দিতে চায়, কারণ তারা দাবি করে যে এআই প্রযুক্তি ও শিশু সুরক্ষা মামলার মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ নেই। এই দাবি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মেটা আরও যুক্তি দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন সার্জন জেনারেল ভাইভেক মুর্থি কর্তৃক প্রকাশিত সামাজিক মিডিয়া ও যুবক মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্কিত জনস্বাস্থ্য সতর্কবার্তাকে বাদ দেওয়া উচিত। তারা বলছে এই সতর্কবার্তা বিচারকের সিদ্ধান্তকে অযথা প্রভাবিত করতে পারে।
কোম্পানি তার নিজস্ব এবং তৃতীয় পক্ষের পরিচালিত জরিপগুলোও বাদ দিতে চায়, যেখানে প্ল্যাটফর্মে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুর পরিমাণ পরিমাপ করা হয়েছে। মেটা যুক্তি দিচ্ছে যে এই জরিপের ফলাফল বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক নয় এবং জুরি সদস্যদের পক্ষপাতদুষ্ট করতে পারে।
মেটার আইনজীবীরা সবশেষে বলছেন যে, উপরে উল্লেখিত সব তথ্যই মামলার মূল অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন এবং জুরির সিদ্ধান্তকে অনুপযুক্তভাবে প্রভাবিত করার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এসব তথ্য বাদ দিয়ে মামলাটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর কেন্দ্রীভূত করা উচিত।
দুইজন আইনি বিশ্লেষক এই ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন যে, মেটার প্রমাণ বাদ দেওয়ার আবেদন সাধারণের চেয়ে বেশি বিস্তৃত। বিশেষ করে এআই চ্যাটবট এবং জনস্বাস্থ্য সতর্কবার্তার মতো বিষয়গুলো বাদ দেওয়া মামলাটির স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই মামলাটি প্রযুক্তি শিল্পে শিশু সুরক্ষা ও প্ল্যাটফর্ম দায়িত্বের বিষয়ে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। যদি মেটা সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিরও একই ধরনের প্রমাণ সীমাবদ্ধের দাবি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর সুরক্ষার ওপর প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, যদি আদালত মেটার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং বিস্তৃত প্রমাণ গ্রহণ করে, তবে এটি প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করতে পারে এবং নাবালকদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে।



