অ্যাপল নতুন একটি পরিধানযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পিনের উন্নয়ন করছে বলে জানা গেছে। এই পিনটি ছোট আকারের হবে এবং এতে একাধিক ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন এবং ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা থাকবে। কোম্পানিটি এই ডিভাইসকে শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাওয়া AI‑সক্ষম সিরি আপডেটের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, যা চ্যাটবটের রূপে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবে।
অ্যাপলের এই পদক্ষেপটি বাজারে সম্প্রতি উন্মোচিত কিছু AI পিনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ওপেনএআই এখনও কোনো হার্ডওয়্যার প্রকাশ করেনি, তবে তার অপ্রকাশিত AI পিনের গুজব শিল্পে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদুপরি, হিউম্যানের AI পিনের ব্যর্থতা, যা ব্যবহারিক দিক থেকে সীমিত কার্যকারিতা দেখিয়েছিল, তা থেকে শিখে অ্যাপল নিজস্ব সমাধান তৈরি করতে চায়।
অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে নতুন ক্যাটেগরিতে প্রবেশের আগে গভীর গবেষণা ও ব্যবহারকারী‑কেন্দ্রিক ডিজাইনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে সিরি আপডেটের দেরি এবং অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সীমিত পারফরম্যান্সের পর, কোম্পানির AI পিনকে বাজারে আনা কিছুটা জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। একই সময়ে, মেটা রে‑ব্যান স্মার্ট গ্লাসের মতো পণ্যগুলোতে AI প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে সংযুক্ত হচ্ছে, যা অ্যাপলের জন্য অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে।
মেটা সম্প্রতি তার ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভাগে ছাঁটাই করার পর নতুন AI হার্ডওয়্যার প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। গুগলও অ্যান্ড্রয়েড XR প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গেমিনি AI-কে ব্যবহারকারীর মুখে আনতে চাচ্ছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত পণ্য প্রকাশিত হয়নি। স্যামসাং গ্যালাক্সি XR সিরিজের সূচনা এবং গুগলের AR গ্লাসের প্রোটোটাইপ ডেমো, পাশাপাশি Xreal-এর প্রজেক্ট অরার গ্লাস, সবই AI‑চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইসের বাজারকে তীব্র করে তুলছে।
অ্যাপলের AI পিন সিরির সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজকে সহজ করার লক্ষ্য রাখে। তবে iPhone, AirPods বা Apple Watch ইতিমধ্যে একই ধরনের ফাংশন প্রদান করে, তাই পিনের ব্যবহারিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অ্যাপল ওয়াচে ক্যামেরা সংযোজনের পরিকল্পনা বাতিল করে, বরং এই বছর নিজস্ব স্মার্ট গ্লাসের উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে বলে জানা যায়।
AI পিনের নকশা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে একাধিক ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন এবং ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের উপস্থিতি ডিভাইসকে বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধান, নোট নেওয়া, রিমাইন্ডার সেট করা এবং সম্ভবত রিয়েল‑টাইম অনুবাদসহ বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে পারবে।
অ্যাপলের এই উদ্যোগটি কেবল সিরি আপডেটের সঙ্গে সমন্বয় নয়, বরং পরিধানযোগ্য AI ডিভাইসের বাজারে তার অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। মেটা, গুগল এবং স্যামসাংয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতিমধ্যে AI‑চালিত গ্লাস ও হেডসেটের দিকে অগ্রসর হওয়ায়, অ্যাপলের পিনের সফলতা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, অ্যাপল একটি ছোট, ক্যামেরা ও অডিও সিস্টেম সমৃদ্ধ AI পিনের উন্নয়ন চালু করেছে, যা সিরি আপডেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনে AI সহায়তা প্রদান করবে। এই পণ্যটি বাজারে অন্যান্য AI পরিধানযোগ্য ডিভাইসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে নতুন মাত্রা যোগ করবে।



