ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং লায়ন্সগেটের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে ক্লাবের ইতিহাসকে নাট্যরূপে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য ক্লাবকে নিম্ন-দশমিক মিলিয়ন পাউন্ডের গ্যারান্টি প্রদান করা হয়েছে এবং ব্রিটিশ টিভি লেখক ও পরিচালক জেড মার্সিওকে সৃজনশীল দায়িত্বে নেওয়া হয়েছে।
পূর্বে, গত গ্রীষ্মে ইউনাইটেডের এশিয়া ট্যুরটি প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন ফলাফল দেখায়। একটি অনিয়মিত আমন্ত্রণমূলক দল, “আসিয়ান অল স্টারস”‑এর বিরুদ্ধে ১-০ হারে পরাজয় হয়, যেখানে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও অনীহা স্পষ্ট ছিল। ভক্তদের সামনে কিছু খেলোয়াড়ের অশোভন আচরণ, যেমন ঘুমিয়ে পড়া ও আঙ্গুলের ইশারা, ট্যুরের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ট্যুর থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় হয়েছে বলে অনুমান করা হয়, তবে তা সত্ত্বেও ক্লাবের চিত্রে বড় ধাক্কা লেগেছে।
নতুন টিভি সিরিজটি ‘দ্য ক্রাউন’ শৈলীর অনুকরণে তৈরি হবে বলে জানা যায়, যা রাণী পরিবারের চিত্রকে পরিবর্তন করেছে। জেড মার্সিও, যিনি নিজেও ইউনাইটেডের ভক্ত, এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি ক্লাবের ইতিহাসকে নাট্যিকভাবে উপস্থাপন করার সময় নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ বজায় রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির আর্থিক শর্তে ক্লাবকে নিম্ন-দশমিক মিলিয়ন পাউন্ডের গ্যারান্টি প্রদান করা হবে, যা গ্রীষ্মের চুক্তি নবায়ন আলোচনায় সহায়তা করবে। এই ধরণের টেলিভিশন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাবের ব্র্যান্ড মান বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী ভক্তদের নতুনভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সিরিজে ক্লাবের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মিউনিখ দুর্ঘটনা, স্যার ম্যাট বাসবির নেতৃত্বে পুনর্গঠন, ১৯৭৪ সালে অবনতি এবং ডেনিস লয়ের ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে গোলের মতো ঘটনা পুনরায় চিত্রায়িত হবে। এছাড়া ‘দ্য হেয়ারড্রায়ার’ নামে পরিচিত কোচের তীব্র কথোপকথন এবং ‘দ্য ব্যাটল অফ দ্য বাফেট’ নামের বিতর্কিত ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, তা নাট্যরূপে উপস্থাপিত হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাবের অতীতের গৌরবময় ও কঠিন সময়গুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। টিভি সিরিজের রিলিজের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইতিবাচক দিক থেকে, এই উদ্যোগটি ক্লাবের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।



