অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন নাট্যচিত্র ‘কুটুর’ এর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বিতরণ অধিকার সিগনেচার এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি অর্জন করেছে। এই চুক্তি হ্যানওয়ে ফিল্মসের সঙ্গে আলোচনা শেষে সম্পন্ন হয়েছে এবং চলচ্চিত্রের স্থানীয় বাজারে প্রচার নিশ্চিত করবে।
‘কুটুর’ হল অ্যালিস উইনোকুরের রচিত ও পরিচালিত একটি ড্রামা, যাকে পূর্বে ‘প্রক্সিমা’ চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক প্রশংসা অর্জন করেছে। চলচ্চিত্রের গল্প প্যারিসের ফ্যাশন সপ্তাহের ব্যস্ত পরিবেশে গড়ে ওঠে, যেখানে তিনটি ভিন্ন পটভূমির নারী একে অপরের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্ত হয়।
ব্রিটিশ ও আয়ারল্যান্ডের প্রথম প্রদর্শনী গ্লাসগো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। এই উৎসবে চলচ্চিত্রের এক এক্সক্লুসিভ স্টিল প্রকাশিত হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ারটি চলচ্চিত্রের ইউকে‑বাজারে প্রবেশের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র ম্যাক্সিন, যাকে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনয় করেছেন, একজন আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি প্যারিসে কাজ করার সময় নিজের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি গুরুতর রোগের মুখোমুখি হন, যা তার জীবনের দিকনির্দেশনা পরিবর্তন করে। এই সংকটে তিনি লুই গারেল অভিনীত এক পরিচিত সহযোগীর সঙ্গে অপ্রত্যাশিত সংযোগ গড়ে তোলেন।
দ্বিতীয় নারী আদা, যাকে আনিয়ের আনে অভিনয় করেছেন, দক্ষিণ সুদান থেকে আসা এক তরুণ মডেল। তিনি তার জন্মভূমির পূর্বনির্ধারিত ভবিষ্যৎ থেকে পালিয়ে প্যারিসের ফ্যাশন জগতে নিজের পথ তৈরি করার চেষ্টা করেন। আদার গল্পটি অভিবাসন, স্বপ্ন এবং আত্ম-সচেতনের সংগ্রামকে তুলে ধরে।
তৃতীয় চরিত্র অ্যাঞ্জেল, এল্লা রাম্পফের অভিনয়ে, প্যারিসের রানের পিছনে কাজ করা এক মেকআপ আর্টিস্ট। তিনি মঞ্চের আলো ও ছায়ার মধ্যে কাজ করে, তবে তার নিজস্ব জীবনের রঙ ও টোন গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম করেন। তার উপস্থিতি চলচ্চিত্রে শিল্পের গোপন দিকগুলোকে উন্মোচন করে।
চলচ্চিত্রের মূল থিম হল জনসাধারণের পারফরম্যান্সের পৃষ্ঠের নিচে লুকিয়ে থাকা নীরব দৃঢ়তা এবং পেশা, সংস্কৃতি ও মহাদেশের পার্থক্য অতিক্রম করে নারীদের মধ্যে গড়ে ওঠা অমৌখিক সংহতি। গল্পের সংযোগের মাধ্যমে এই সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী বন্ধনকে তুলে ধরা হয়েছে।
‘কুটুর’ প্রথমবার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বপ্রদর্শনী পেয়েছিল, যেখানে এটি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। এরপর স্পেনের সান সেবাস্টিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে ইউরোপীয় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে চলচ্চিত্রের পৌঁছানোর পথ সুগম করে।
প্রযোজনা দিক থেকে চলচ্চিত্রটি চারজন প্রখ্যাত প্রযোজকের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে। চার্লস গিলিবের, সিজি সিনেমার প্রতিষ্ঠাতা, এবং ঝাং শিন, ক্লোজার মিডিয়ার অংশীদার, পাশাপাশি উইলিয়াম হরবেগের সমর্থন চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে উঁচুতে নিয়ে গেছে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নিজেই প্রযোজনা টিমের মধ্যে রয়েছেন, আর বব শু এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন।
ফ্রান্স ৩ সিনেমা সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে এবং চলচ্চিত্রটি আইল-দে-ফ্রঁসের অঞ্চল, কানাল+, সিনি+ ওসিএস, ফ্রান্স টেলিভিশন এবং চ্যানেলসহ বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এই সমন্বিত তহবিল চলচ্চিত্রের উচ্চমানের উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বিতরণকে সম্ভব করেছে।
সিগনেচার এন্টারটেইনমেন্টের অধিগ্রহণের ফলে ‘কুটুর’ ইউকে ও আয়ারল্যান্ডের সিনেমা হল ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য হবে, যা স্থানীয় দর্শকদের ফ্যাশন ও নারীর সংহতি নিয়ে গঠিত এই সূক্ষ্ম গল্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। চলচ্চিত্রের পরবর্তী প্রদর্শনী ও বিতরণ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।



