28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিইউএই শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা আইন অভিভাবকদের আইনি দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে

ইউএই শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা আইন অভিভাবকদের আইনি দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নতুন চাইল্ড ডিজিটাল সেফটি (সিডিএস) আইন কার্যকর হয়েছে, যা শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমের তদারকি অভিভাবকদের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা করে তুলেছে। আইনটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গলফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ককে শিশুর ডিজিটাল ব্যবহার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই পরিবর্তনটি অনলাইন নিরাপত্তা ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে আইনগত ভিত্তি প্রদান করে।

আইনের মূল ধারায় বলা হয়েছে যে, অভিভাবকদের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে শিশুর অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে হবে এবং বয়সের উপযোগী নয় এমন অ্যাকাউন্ট তৈরি বা ব্যবহার অনুমোদন করা যাবে না। এছাড়া, কোনো অনলাইন বিষয়বস্তু যদি শিশুর গোপনীয়তা, মর্যাদা বা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে বলে ধরা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক।

ডিজিটাল গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধানগুলোতে বিশেষভাবে ১৩ বছরের নিচের শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অভিভাবকের লিখিত ও যাচাইযোগ্য সম্মতি প্রয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মতি ছাড়া কোনো ডেটা সংগ্রহ বা ব্যবহার করা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে স্পষ্ট সম্মতি নিতে এবং তা সহজে প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা প্রদান করতে হবে।

প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল শিশুর তথ্যকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার না করা। তথ্যের বাণিজ্যিকীকরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, যা শিশুদের ডেটা সুরক্ষার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। এছাড়া, ১৮ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য অনলাইন গেম, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে এই নিষিদ্ধ সাইটে প্রবেশ বাধা দেওয়ার জন্য কার্যকর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাইট ব্লকিং, কন্টেন্ট ফিল্টারিং এবং ব্যবহারকারী যাচাইয়ের মাধ্যমে শিশুদের অনিচ্ছাকৃত প্রবেশ রোধ করা হবে।

ইউএই সাইবারসিকিউরিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৭২ শতাংশ প্রতিদিন স্মার্টফোন ব্যবহার করে। তবে মাত্র ৪৩ শতাংশ অভিভাবক নিয়মিতভাবে তাদের সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এই পার্থক্য আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ উভয়ই তুলে ধরে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, আজকের অনলাইন হুমকিগুলো প্রযুক্তিগত দুর্বলতার চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফিশিং, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মানসিক প্রভাবের মাধ্যমে শিশুরা সহজে লক্ষ্যবস্তু হয়। তাই, কেবল প্রযুক্তিগত ফিল্টার নয়, অভিভাবকের সক্রিয় তদারকি ও সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ।

সিডিএস আইনটি ডিজিটাল পরিবেশে শিশুর অধিকার রক্ষার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে অভিভাবক, প্ল্যাটফর্ম এবং সেবা প্রদানকারী সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আইনগত দায়িত্বের স্পষ্টীকরণ ভবিষ্যতে অনলাইন নিরাপত্তা নীতি গঠনে মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই নতুন বিধানগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং পারিবারিক তদারকি একসাথে শিশুর নিরাপদ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments