ড্যানিশ-নরওয়েজিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা যোয়াকিম ট্রিয়ার ‘Sentimental’ ছবির সেরা পরিচালক বিভাগে প্রথমবারের মতো অস্কার মনোনয়ন পেয়েছে। এই স্বীকৃতি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত, এবং ছবিটি মোট নয়টি বিভাগে নামকরণ পেয়েছে।
ট্রিয়ার চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৃতীয় প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে শুরু হয়। ছোটবেলায় তিনি ও তার পরিবার অস্কার অনুষ্ঠানটি ঘরে বসে দেখত, যা তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এখন তিনি নিজেই সেই মঞ্চে নামার স্বপ্ন পূরণ করছেন।
‘Sentimental’ ছবিটি এই বছর অস্কার নির্বাচনে সর্বাধিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ছবিটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেত্রী (রেনেট রেইনস্ভে), সেরা সহ-অভিনেত্রী (এল ফ্যানিং ও ইনগা ইবসডটার লিল্লেয়াস), সেরা সহ-অভিনেতা (স্টেলান স্কার্সগার্ড), সেরা সম্পাদনা, সেরা মূল স্ক্রিপ্ট এবং সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে নামকরণ পেয়েছে।
এই বিস্তৃত নামকরণে ট্রিয়ার লেখক-প্রযোজক সঙ্গী এস্কিল ভগটেরও অবদান রয়েছে। উভয়ই ছবির স্ক্রিপ্ট ও প্রযোজনা প্রক্রিয়ায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন, ফলে তাদের যৌথ সৃজনশীলতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃত হয়েছে।
ট্রিয়ার এই সাফল্য নিয়ে তিনি অতি আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্বীকৃতি তার জন্য বড় গর্বের বিষয় এবং তিনি এই মুহূর্তকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
তিনি অতীতের অস্কার অনুষ্ঠানগুলোকে স্মরণ করে বলেন, যখন তিনি ছোটবেলায় পরিবারে বসে পুরস্কার বিতরণ দেখতেন, তখনই তিনি স্বপ্ন দেখতেন যে একদিন তিনি নিজে মঞ্চে দাঁড়াবেন। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
নামকরণ তালিকায় প্রথমে এল ফ্যানিংয়ের নাম শোনা যায়, যা ট্রিয়ার জন্য বিশেষভাবে উচ্ছ্বাসের কারণ। তিনি ফ্যানিংকে তার বুদ্ধিমত্তা ও শিল্পকুশলতার জন্য প্রশংসা করেন এবং বলেন, তার উপস্থিতি ছবিটিকে অতিরিক্ত মান যোগ করেছে। তৎপরই ইনগা ইবসডটার লিল্লেয়াসের নাম শোনা যায়, যা ট্রিয়ার চোখে আরেকটি আবেগপূর্ণ মুহূর্ত।
ট্রিয়ার মনোভাব স্পষ্ট যে, তিনি মনোনীত অন্যান্য পরিচালক ও অভিনেতাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি তাদেরকে শুধু সহকর্মী নয়, বরং সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেন, যা এই স্বীকৃতিকে তার জন্য আরও মূল্যবান করে তুলেছে।
এই অস্কার মনোনয়ন নরওয়েজিয়ান ও ড্যানিশ চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নর্দার্ন সিনেমার উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের স্বীকৃতি স্থানীয় শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস জোরদার করে।
চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ‘Sentimental’ দেখতে না গিয়ে থাকলে এখনই সুযোগ। ছবির গভীর মানবিক থিম ও চমৎকার অভিনয়শৈলী বড় স্ক্রিনে উপভোগ করা যায়, যা ট্রিয়ার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও নর্দার্ন সিনেমার বৈশ্বিক সম্ভাবনা তুলে ধরে।
অস্কার মনোনয়নের এই উল্লাসের পর, ট্রিয়ার পরবর্তী প্রকল্পের অপেক্ষা বাড়ছে। তবে এখনের জন্য ‘Sentimental’ ছবিটিকে সমর্থন করা এবং তার সাফল্যকে উদযাপন করা সর্বোত্তম পদক্ষেপ হবে।



