ঢাকার নায়াপাল্টনে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে একটি শিশুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার আদালতে অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায় প্রায় চার-পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে স্কুলের ইউনিফর্মে বসে থাকা অবস্থায় দুজন প্রাপ্তবয়স্কের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই ঘটনার পর পরিবারিক কোনো সদস্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
পাল্টন থানা পুলিশ অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, অভিযোগকারী শিশুর আত্মীয়। পুলিশের মতে, ভিডিওতে দেখা দুজনই শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধানশিক্ষিকা শারমিন জাহান এবং স্কুলের ম্যানেজার পবিত্র কুমার, যাঁরা বিবাহিত দম্পতি। দুজনকে বর্তমানে গ্রেফতার করা যায়নি, কারণ ভিডিওটি ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তারা গোপনে অদৃশ্য হয়ে গেছেন।
পুলিশ বর্তমানে তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রেফতার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে শিশুর পরিবার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে মামলা দায়েরে দ্বিধা পোষণ করলেও, ভিডিওর জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। অভিযুক্তদের গৃহহীন অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০১১ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে স্কুলে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই বছর শিক্ষামন্ত্রণালয়ও একটি নোটিশ জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করেছে। এই রায় ও নোটিশ অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি প্রদান করা সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং, শারমিন একাডেমিতে ঘটিত নির্যাতন আইনগতভাবে কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য।
সিসিটিভি ফুটেজটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২:৫১ টায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং এতে এক নারীর (গোলাপী শাড়ি পরা) হাতে শিশুটিকে অফিসের দিকে টেনে নেওয়া দেখা যায়। শিশুটি স্কুলের ইউনিফর্মে ছিল এবং তাকে একটি ডেস্কের পিছনে বসে থাকা পুরুষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে নারিটি বারবার শিশুটিকে চড়িয়ে মারতে এবং তাড়া করতে দেখা যায়, যখন শিশুটি ভয়ভীত হয়ে কাঁদছে।
পুরুষটি একটি স্ট্যাপলার হাতে নিয়ে শিশুটির মুখে স্ট্যাপল লাগিয়ে দেবার হুমকি দেয়। শিশুটি আতঙ্কে কাঁদতে থাকে, আর নারিটি হেসে হেসে এই নির্যাতন চালিয়ে যায়। এই দৃশ্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক নিন্দা ও উদ্বেগের স্রোত সৃষ্টি হয়।
ফুটেজটি ফেসবুকে



