নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ ব্যাটসম্যান কেইন উইলিয়ামসন রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের কোয়ালিফায়ার ম্যাচের আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) উপস্থিত হন। বুধবারের প্রস্তুতি সেশনের পর বৃহস্পতিবার মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনে তিনি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, আধুনিক টি২০ যুগে তার ব্যাটিং দৃষ্টিভঙ্গি এবং ব্ল্যাক ক্যাপসের আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
উইলিয়ামসন আধুনিক টি২০ ক্রিকেটে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিকে বজায় রাখার জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি বললেন, যদিও শৈলী ও গতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তবুও মৌলিক নীতি ও শৃঙ্খলা ত্যাগ করা যায় না, যা তাকে আজও ভিন্ন করে তুলেছে।
২০১৯ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে তার দলকে কীভাবে শান্ত রাখলেন, তা নিয়ে তিনি বিশদে ব্যাখ্যা করেন। দুই মাসের ধারাবাহিক টুর্নামেন্টের পর ফাইনালে পৌঁছানো নিজেই একটি বিশাল অর্জন, এবং ম্যাচের নাটকীয়তা খেলাটিকে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি ইংল্যান্ডে শিখে নেওয়া শৈলীর উপর দৃঢ়ভাবে মনোযোগী ছিল, যা দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতির ফল। ফলাফল যাই হোক না কেন, খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রচেষ্টায় গর্বিত এবং নিয়মের মতো অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলোকে স্বীকার করে সেগুলোকে পেছনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
২০১৯ সালের হৃদয়বিদারক পরাজয়ের পর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়কে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। হাজারো ম্যাচের পর প্রথমবারের মতো টেস্ট শিরোপা নির্ধারিত হওয়া একটি অনন্য অভিজ্ঞতা, যা দলের জন্য আবেগপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। কয়েক মাসের মধ্যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পৌঁছানো, এবং ভারতীয় দলে বিপরীত শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মেস জেতা, তার মতে, পুরো টিমের জন্য যথার্থ স্বীকৃতি।
বিপিএলে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি স্বীকার করেন যে এখনো মাত্র একটিই ম্যাচ খেলেছেন, তাই পুরোপুরি তুলনা করা কঠিন। তবুও তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্সাহের স্তরকে উচ্চ বলে উল্লেখ করেন, যেখানে ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থন অনন্য। এই উত্সাহই বিপিএলকে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে আলাদা করে তোলার প্রধান কারণ।
আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি ব্ল্যাক ক্যাপসের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। দলটি টেস্ট ও ওডি উভয় ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, টি২০-তেও একই শৃঙ্খলা ও কৌশল প্রয়োগ করলে শিরোপা জেতার সম্ভাবনা বাড়বে, এটাই তার মূল বার্তা।
রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের কোয়ালিফায়ার ম্যাচে উইলিয়ামসনের উপস্থিতি দলকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ব্যাটিং পদ্ধতি ও মানসিক দৃঢ়তা স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য শিক্ষার সুযোগ হবে, এবং পরবর্তী ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
কেইন উইলিয়ামসনের এই মন্তব্যগুলো তার ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা, ঐতিহ্যবাহী মানসিকতা এবং আধুনিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জের মধ্যে সমন্বয়কে তুলে ধরে। তিনি যে কোনো ফরম্যাটে নিজের শৈলী বজায় রেখে, দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



