বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমান আজ সন্ধ্যায় হাবিগঞ্জের শায়েসতাগঞ্জে অনুষ্ঠিত আপাজিলা পরিষদ সমাবেশে উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে কিছু গোষ্ঠী দরজায় দরজা করে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন, “তাদের লোকজন দরজায় দরজা গিয়ে এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করছে।” তরিক রাহমান কোনো নির্দিষ্ট দল বা সংগঠন উল্লেখ না করে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
এছাড়া তিনি যোগ করেন, “মা ও বোনদের মোবাইল নম্বর, বিশেষত বিকাশ নম্বরও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে তারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারে – এটাই তাদের পরিকল্পনা।” তিনি এই তথ্যকে নির্বাচনের পূর্বে আর্থিক প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রাহমানের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “অনেকেই ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে, এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।” তিনি এই ধরা পড়া ব্যক্তিদের উদাহরণ দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে অর্থ প্রদান করে ভোটারকে প্রভাবিত করা যায় এবং তা থেকে সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, “যারা নির্বাচনের আগে অসৎ কাজ করে, তারা ক্ষমতায় আসলেও সৎ কাজ করতে পারে না।” তিনি এই যুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তরিক রাহমান আরও উল্লেখ করেন, “শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া কেবলই দেখিয়েছেন কীভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।” তিনি এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক সংস্থার দুর্নীতি সূচক সম্পর্কিত তথ্যের উল্লেখ করেন, যদিও তিনি নিজে কোনো গবেষণা বা রিপোর্টের ভিত্তিতে না বলে উল্লেখ করেন।
এই সমাবেশে উপস্থিত শ্রোতারা রাহমানের বক্তব্যে তীব্র মনোযোগ দেন এবং প্রশ্ন করেন, কীভাবে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে রাহমান কোনো নির্দিষ্ট আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা বা তদন্তের নির্দেশনা দেননি।
প্রতিবাদী দল ও বিশ্লেষকরা রাহমানের এই অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, তবে রাহমানের দল এটিকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য জরুরি সতর্কতা হিসেবে উপস্থাপন করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যে কিছু দরজায় দরজা করে তথ্য সংগ্রহের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পরিচয় বা উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়নি। রাহমানের মতে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে ভোটারদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমানের এই মন্তব্যের পর, অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা এখনও কোনো মন্তব্য দেননি, তবে নির্বাচনী সময়ে তথ্যের অপব্যবহার ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সত্যিই দরজায় দরজা করে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের ঘটনা প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
অবশেষে রাহমানের এই বক্তব্যের প্রভাব কী হবে, তা নির্বাচনের অগ্রগতি ও ভোটারদের আচরণে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা সময়ই বলবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, অসৎ কাজের মাধ্যমে সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় এবং এমন কৌশলকে রোধ করা দরকার।



