প্রথম আলোয়ের নাম, লোগো এবং ওয়েবসাইটের নকশা অনুকরণ করে সম্প্রতি বেশ কিছু ভুয়া সাইট, পেজ এবং সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে। এই নকলগুলো মূল সাইটের মতোই দেখায় এবং পাঠকদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তথ্য ও বিজ্ঞাপন ছড়ায়।
নকল সাইটগুলোতে প্রথম আলোর মূল রঙ, ফন্ট এবং লেআউট ঠিক একই রকম ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে প্রথম নজরে পার্থক্য চেনা কঠিন। লোগোর আকার, রঙের স্কিম এবং হেডার বার একদম মূল সাইটের মতোই পুনরায় তৈরি করা হয়েছে।
এই ভুয়া পেজগুলো গুগল সার্চ, বিভিন্ন বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক এবং সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পায়। কখনো কখনো প্রথম আলোর প্রকৃত সাইটের পাশে বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখা যায়, যা ব্যবহারকারীর বিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রথম আলোর অফিসিয়াল ডোমেইন www.prothomalo.com থেকে ভিন্ন ঠিকানায় এই বিজ্ঞাপনগুলো ক্লিক করলে ভিন্ন সাইটে পৌঁছানো যায়। URL-এ অতিরিক্ত অক্ষর, ভিন্ন ডোমেইন এক্সটেনশন বা অপ্রচলিত সাবডোমেইন দেখা যায়, যা মূল সাইটের সঙ্গে মেলে না।
প্রথম আলো দ্রুতই এই ধরনের বিজ্ঞাপন শনাক্ত করে ব্লক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিজ্ঞাপন সার্ভার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে নকল বিজ্ঞাপনগুলোকে সরিয়ে দেয়া হয়।
পাঠকদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যাচাই পদ্ধতি হল অফিসিয়াল সাইটের কনটেন্ট এবং প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করা। উভয় প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সংবাদ, ছবি ও লিঙ্ক একসাথে মিলিয়ে দেখা নিশ্চিত করে যে তথ্যটি সত্যিকারের।
প্রথম আলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এই ভুয়া সাইট, পেজ বা বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা সম্পূর্ণভাবে প্রতারণামূলক এবং বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যে তৈরি।
এই ধরনের নকল কন্টেন্টকে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার ইনস্টলেশন বা অনিচ্ছাকৃত সাবস্ক্রিপশন চালু করার ঝুঁকি থাকে।
যদি কোনো পাঠক প্রথম আলোর নামে সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন, লিংক, ওয়েবসাইট বা সামাজিক মিডিয়া পেজের সম্মুখীন হন, তবে তা সরাসরি [email protected] ইমেইলে জানাতে বলা হচ্ছে। রিপোর্টে লিংকের পূর্ণ URL, স্ক্রিনশট এবং যেখানে দেখা গিয়েছে তার বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম আলো সংশ্লিষ্ট ভুয়া সাইট বা পেজকে তার বিজ্ঞাপন সার্ভার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্লক করার পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।
পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করে, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করে এবং শুধুমাত্র অফিসিয়াল সাইট ও ভেরিফায়েড প্ল্যাটফর্মের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে। এই সতর্কতা তথ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম আলোর মূল সাইট এবং ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদই সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা রাখে। অন্য কোনো উৎস থেকে আসা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করা পর্যন্ত তা ব্যবহার না করা উচিত।
ডিজিটাল যুগে নকল সাইটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। প্রথম আলো এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং পাঠকদের নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।



