মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ইটিসি (কলেজ পরিবর্তন) ও বিটিসি (বোর্ড পরিবর্তন) প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তটি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মুনসী হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় প্রদান করে তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন সময়সীমা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে ইটিসি ও বিটিসি উভয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। পূর্বে নির্ধারিত সময়সীমা তুলনায় এই সম্প্রসারণ শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করবে।
অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কলেজের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ, সরাসরি বোর্ডের অফিসে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই; কলেজের অনুমোদন ও সহায়তা দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে। এই পদ্ধতি সময় ও শ্রমের দিক থেকে সুবিধাজনক এবং শিক্ষার্থীর জন্য কম জটিলতা তৈরি করে।
প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকার নির্দিষ্ট পরিমাণ। এই ফি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা কলেজের হিসাব বিভাগে জমা দিয়ে সম্পন্ন করা যাবে। ফি প্রদানের পরই আবেদনটি সিস্টেমে স্বীকৃত হবে এবং পরিবর্তন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
অনলাইন পোর্টালটি ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করে, ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামত সময়ে লগইন করে ফর্ম পূরণ ও ডকুমেন্ট আপলোড করতে পারবে। পোর্টালে প্রয়োজনীয় ফরম, নির্দেশিকা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সহজ করে তুলেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইটিসি ও বিটিসি উভয় প্রক্রিয়ার জন্য একই ফি ধার্য করা হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক দিক থেকে কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না। এছাড়া, ফি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হবে না, যা আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
প্রতিটি কলেজের দায়িত্ব হল শিক্ষার্থীর আবেদন ফর্ম যাচাই করা এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার পরই তা বোর্ডের সিস্টেমে আপলোড করা। কলেজের অনুমোদন পেলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বোর্ডের ডাটাবেসে সংযুক্ত হয় এবং পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ধাপটি নিশ্চিত করে যে, ভুল তথ্য বা অনুপযুক্ত নথি জমা না হয়।
প্রকৃতপক্ষে, পূর্বে একই সময়সীমা ছিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট সময় না হতে পারে। সম্প্রসারণের ফলে এখন শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পাবে, যা বিশেষ করে গ্রামীণ বা দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুবিধা।
একজন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, যিনি অনলাইন ইটিসি করতে চেয়েছিলেন, তিনি জানান যে নতুন সময়সীমা তাকে তার পারিবারিক দায়িত্ব এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে সমন্বয় করতে সহায়তা করেছে। তিনি কলেজের সহায়তায় ফর্ম পূরণ করে সফলভাবে পরিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এই উদাহরণটি দেখায় যে, সম্প্রসারণের বাস্তব প্রভাব কতটা ইতিবাচক।
শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ: প্রথমে নিজের কলেজের দায়িত্বশীল কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ফরম ও নির্দেশিকা সংগ্রহ করুন। এরপর অনলাইন পোর্টালে লগইন করে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন এবং ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করুন। ফি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করুন, কারণ তা পরবর্তীতে প্রয়োজন হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, আবেদন জমা দেওয়ার পর নিশ্চিত করুন যে আপনার কলেজ থেকে অনুমোদন নোটিফিকেশন পাওয়া গেছে।
আপনার কি ইতিমধ্যে অনলাইন ইটিসি বা বিটিসি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন? যদি না হয়ে থাকেন, তবে এখনই সময়সীমা বাড়ার সুবিধা নিয়ে পরিকল্পনা করুন এবং প্রয়োজনীয় সব ধাপ সম্পন্ন করুন।



