গুগল ডিপমাইন্ড হিউম এআই নামের ভয়েস এআই স্টার্টআপের সিইও অ্যালান কোয়েন এবং প্রায় সাতজন শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারকে নতুন লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে তার টিমে যুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপে হিউম এআই অবশিষ্ট দলটি অন্যান্য এআই কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযুক্তি সরবরাহ চালিয়ে যাবে, আর আর্থিক শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি।
অধিগ্রহণের পদ্ধতি ‘অ্যাকুইহায়ার’ নামে পরিচিত, যেখানে কোম্পানি পুরো স্টার্টআপের বদলে তার ট্যালেন্ট দলকে নিয়ে আসে। গুগল ডিপমাইন্ডের এই পদক্ষেপটি গেমিনি চ্যাটবটের ভয়েস ফিচারকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। হিউম এআইয়ের সিইও ও ইঞ্জিনিয়াররা গেমিনির ভয়েস ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে বলে জানা গেছে।
হিউম এআই ভয়েসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আবেগ ও মেজাজ শনাক্ত করতে সক্ষম একটি মডেল তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে তারা ‘এম্প্যাথেটিক ভয়েস ইন্টারফেস’ নামে একটি কথোপকথনমূলক এআই চালু করে, যা ব্যবহারকারীর স্বরের টোন থেকে অনুভূতি বুঝে সাড়া দেয়। কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে এবং একই বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
গুগলও ভয়েস প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি চালিয়ে যাচ্ছে। গেমিনি লাইভ ফিচার ব্যবহারকারীদের চ্যাটবটের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করার সুযোগ দেয়, আর সম্প্রতি গেমিনি লাইভ এপিআইয়ের জন্য একটি নতুন নেটিভ অডিও মডেল প্রকাশ করে, যা জটিল কাজের প্রবাহ পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
এই ধরনের ট্যালেন্ট অধিগ্রহণের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে। গত বছর গুগল ভয়েস কোডিং স্টার্টআপ উইন্ডসার্ফের সিইও ও গবেষকদের অধিগ্রহণ করেছিল, আর ওপেনএআইও কোভোগো ও রোইয়ের মতো স্টার্টআপের দলকে যুক্ত করেছে। ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এই ধরনের চুক্তিগুলোর ওপর নজর বাড়িয়ে দিয়েছে, যাতে বাজারে একচেটিয়া ক্ষমতা গড়ে না ওঠে।
ভয়েস এআইকে পরবর্তী বড় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মানবের স্বরকে বিশ্লেষণ করে আবেগগত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারা মডেলগুলো গ্রাহক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যবহারযোগ্যতা বাড়াচ্ছে। গুগল ও ওপেনএআই উভয়ই তাদের অডিও মডেলকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা চালু করেছে, যা ভবিষ্যতে ভয়েস-প্রথম ইন্টারফেসের বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
হিউম এআইয়ের টিমের গুগলে যোগদানের ফলে গেমিনির ভয়েস ক্ষমতা দ্রুত উন্নত হবে, এবং একই সঙ্গে হিউম এআই অন্যান্য এআই কোম্পানির জন্য প্রযুক্তি সরবরাহ চালিয়ে যাবে। এই ধরনের কৌশলিক অধিগ্রহণ স্টার্টআপের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বজায় রেখে বড় প্ল্যাটফর্মে সংহত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভয়েস এআইয়ের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ায়, ট্যালেন্টের ঘাটতি পূরণে কোম্পানিগুলো টিম-ভিত্তিক অধিগ্রহণকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এফটিসি’র তদারকি সত্ত্বেও, এই চুক্তিগুলো শিল্পের দ্রুত অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করছে।



