Under Armour জানিয়েছে যে তারা একটি ডেটা লিকের অভিযোগের মুখোমুখি, যেখানে ৭২ মিলিয়ন গ্রাহকের রেকর্ড হ্যাকার ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে। লিকটি নভেম্বর মাসে ঘটেছে এবং Everest র্যানসমওয়্যার গ্যাং নিজেই দায় স্বীকার করেছে। কোম্পানি এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছে।
প্রকাশিত ডেটাসেটে গ্রাহকের নাম, ইমেইল ঠিকানা, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, পোস্টকোড বা ZIP কোডের ভিত্তিতে আনুমানিক অবস্থান এবং কেনাকাটার বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও Under Armour-এ কাজ করা কর্মচারীদের ইমেইল ঠিকানাও ফাইলের অংশ হিসেবে দেখা গেছে। ডেটার পরিমাণ লক্ষ লক্ষ রেকর্ডের সমান, যা গ্রাহকের ক্রয় ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত তথ্যের একটি বিশাল সংগ্রহ নির্দেশ করে।
ডেটা লিকের ব্যাপকতা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম ছিল Have I Been Pwned নামের ব্রিচ নোটিফিকেশন সাইট। এই সাইট ডেটার একটি কপি পেয়ে ৭২ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর ইমেইলে জানিয়ে দেয় যে তাদের তথ্য ফাঁস হয়েছে। নোটিফিকেশনটি এই সপ্তাহে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে এবং অনেক ব্যবহারকারীকে সতর্ক করেছে যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইন জগতে প্রকাশিত হতে পারে।
Under Armour-এর মুখপাত্র মেট ডর্নিক জানিয়েছেন যে কোম্পানি অবৈধ তৃতীয় পক্ষের ডেটা প্রাপ্তির দাবি সম্পর্কে সচেতন এবং বাহ্যিক সাইবারসিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা নির্দেশ করে যে UA.com ওয়েবসাইট, পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেম বা গ্রাহকের পাসওয়ার্ড সংরক্ষণকারী সার্ভারগুলোতে লিক ঘটেছে। কোম্পানি দাবি করে যে প্রভাবিত গ্রাহকের সংখ্যা, যাদের তথ্য সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত, মোটের তুলনায় খুবই কম।
তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে নিরাপত্তা দল ডেটা লিকের মূল উৎস এবং হ্যাকারদের ব্যবহৃত পদ্ধতি বিশ্লেষণ করছে। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ভবিষ্যতে একই ধরনের লিক রোধ করা যায় এবং গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়। এছাড়া, কোম্পানি জানিয়েছে যে তারা সমস্ত অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের নিরাপত্তা পুনরায় পরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজনীয় আপডেট প্রয়োগ করবে।
সংবেদনশীল তথ্যের পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করেও কোম্পানি জোর দিয়ে বলেছে যে প্রভাবিত গ্রাহকের শতাংশ খুবই সীমিত। তবে, ডেটাসেটে অন্তর্ভুক্ত তথ্যের মধ্যে জন্মতারিখ এবং ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত বিবরণ রয়েছে, যা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মুখপাত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থতা দেখা গেছে; তিনি কোন ধরনের তথ্যকে সংবেদনশীল বলে গণ্য করা হয় এবং মোট কতজন গ্রাহক প্রভাবিত হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি। এই তথ্যের অনুপস্থিতি গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ডেটা লিকের ফলে গ্রাহকের গোপনীয়তা এবং ব্র্যান্ডের সুনাম উভয়ই ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে ফিটনেস ও পোশাক শিল্পে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এই তথ্যগুলো প্রায়শই মার্কেটিং ও ব্যক্তিগতকৃত সেবার জন্য ব্যবহার করা হয়। তাই, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট করা এবং সম্ভাব্য দুর্বলতা দ্রুত সনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহারে বলা যায়, Under Armour বর্তমানে লিকের প্রকৃতি ও পরিধি নির্ধারণের জন্য গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ডেটা সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত পেমেন্ট বা পাসওয়ার্ড সিস্টেমে কোনো প্রভাবের নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও, গ্রাহকদের সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।



