অস্টিন‑ভিত্তিক ফটোনিক স্টার্ট‑আপ Neurophos ১১০ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ‑এ তহবিল সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে। এই রাউন্ডের প্রধান বিনিয়োগকারী হল Gates Frontier, বিল গেটসের ভেঞ্চার ফার্ম, এবং এতে Microsoft‑এর M12, Carbon Direct, Aramco Ventures, Bosch Ventures, Tectonic Ventures, Space Capital ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে। তহবিলের লক্ষ্য হল অপটিক্যাল প্রসেসর উন্নয়ন, যা AI মডেল চালানোর সময় কম শক্তি ব্যবহার করে উচ্চ গতি প্রদান করবে।
Neurophos ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় ও Metacept ইনকিউবেটর থেকে উদ্ভূত একটি কোম্পানি। Metacept হল ডিউক‑এর প্রফেসর ডেভিড আর. স্মিথের পরিচালিত একটি ইনকিউবেটর, যেখানে ফটোনিক ও মেটামেটেরিয়াল গবেষণার ভিত্তিতে নতুন পণ্য তৈরি করা হয়। স্মিথের গবেষণা দুই দশক আগে বাস্তবিক অদৃশ্যতা চাদর তৈরির দিকে নিয়ে গিয়েছিল, যদিও তা কেবল একক মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
সেই সময়ের মেটামেটেরিয়াল গবেষণা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক্সের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যা আজকের ফটোনিক চিপের ভিত্তি গঠন করে। Neurophos এই গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে “মেটাসারফেস মডুলেটর” নামে একটি অপটিক্যাল উপাদান তৈরি করেছে। এই মডুলেটরের বিশেষ অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য তাকে টেনসর কোর প্রসেসরের মতো কাজ করতে সক্ষম করে, যেখানে ম্যাট্রিক্স‑ভেক্টর গুণন সম্পন্ন হয়।
ম্যাট্রিক্স‑ভেক্টর গুণন AI‑এর ইনফারেন্সিং ধাপে অপরিহার্য, কারণ এটি প্রশিক্ষিত মডেলকে বাস্তব ডেটার ওপর প্রয়োগের মূল গণনা। বর্তমানে এই কাজটি বিশেষায়িত GPU ও TPU ব্যবহার করে করা হয়, যেগুলো সিলিকন গেট ও ট্রানজিস্টার দিয়ে তৈরি। Neurophos দাবি করে যে তার অপটিক্যাল প্রসেসিং ইউনিট (OPU) একই কাজকে সিলিকন‑ভিত্তিক GPU‑এর তুলনায় দ্রুত এবং শক্তি‑দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
কোম্পানি এক চিপে হাজারো মেটাসারফেস মডুলেটর সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। আলো ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ করা হলে তাপ উৎপাদন কমে, গতি বাড়ে এবং তাপমাত্রা বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো AI ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ ও শীতলীকরণ সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফটোনিক চিপের তাত্ত্বিক সুবিধা সত্ত্বেও, অপটিক্যাল উপাদানগুলো সাধারণত সিলিকন উপাদানের তুলনায় বড় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া জটিল। তাই অপটিক্যাল চিপকে বৃহৎ স্কেলে ব্যবহারযোগ্য করতে নকশা ও ফ্যাব্রিকেশন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গবেষণা প্রয়োজন। Neurophos এর তহবিল সংগ্রহ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গবেষণা ও উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলার জন্য ব্যবহার করা হবে।
বৃহৎ AI ল্যাব ও হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান কম্পিউটিং ক্ষমতা ও শক্তি দক্ষতার চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে। ঐ চাহিদা পূরণে অপটিক্যাল প্রসেসরের সম্ভাবনা বড়, কারণ আলো ব্যবহার করে ডেটা প্রেরণ সিলিকনের চেয়ে দ্রুত এবং তাপ উৎপাদন কম। Neurophos এর প্রযুক্তি যদি সফল হয়, তবে AI ইনফারেন্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
বিনিয়োগকারীরা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বীকৃতি দিয়ে তহবিল প্রদান করেছে। Gates Frontier, Bill Gates এর ভেঞ্চার ফার্ম, AI‑এর ভবিষ্যৎ গঠনকারী প্রযুক্তিতে আগ্রহী। Microsoft‑এর M12, Carbon Direct, Aramco Ventures, Bosch Ventures, Tectonic Ventures এবং Space Capital ইত্যাদি নামকরা ফার্মও একই দৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করেছে। এই সমর্থন Neurophos‑কে গবেষণা, পাইলট উৎপাদন এবং বাজারে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ দেবে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের জন্যও এই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। AI‑চালিত সেবা ও পণ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি‑দক্ষ কম্পিউটিং সমাধানের প্রয়োজন বাড়বে। যদি অপটিক্যাল প্রসেসর বৃহৎ পরিসরে উৎপাদিত হয়, তবে স্থানীয় ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ বিল কমে এবং পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস পাবে। এছাড়া, ফটোনিক চিপের গবেষণায় নতুন স্টার্ট‑আপ ও একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে।
সারসংক্ষেপে, Neurophos এর $১১০ মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহ এবং মেটাসারফেস মডুলেটর ভিত্তিক অপটিক্যাল প্রসেসর উন্নয়ন AI কম্পিউটিংয়ের শক্তি‑দক্ষতা ও গতি বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। যদিও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবু বৃহৎ বিনিয়োগ ও গবেষণা সমর্থন এই ক্ষেত্রকে দ্রুত অগ্রসর করার ভিত্তি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে অপটিক্যাল চিপের ব্যাপক ব্যবহার AI‑এর স্কেলিং সমস্যার সমাধান এবং টেকসই ডেটা সেন্টার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



