দক্ষিণ ২৪ পরগণার মুড়িগঙ্গা নদীতে একটি বাংলাদেশি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১২ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি বুধবার ঘটেছে, যখন জাহাজটি খুলনা থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে ছিল। স্থানীয় সাগর থানার দল এবং জেলেদের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নাবিকদের নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।
ডুবন্ত বালুর চরে জাহাজটি ধাক্কা খাওয়ার পর ফাটল ধরায় এবং জল ভরে ওঠে। ফলে জাহাজের কাঠামো দুর্বল হয়ে ১২ নাবিক আটকে যায়। জাহাজটি এমভি তামজিত নামের একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ফ্লাই অ্যাশ নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসছিল। ডুবন্ত বালুচরে আঘাতের পর জাহাজে পানি প্রবেশের ফলে জরুরি অবস্থায় নাবিকদের তৎক্ষণাৎ সাহায্য প্রয়োজন হয়।
স্থানীয় জেলেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাগর থানার পুলিশকে জানায়। পুলিশ দল দ্রুত জেলেদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান চালায়। দলটি নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করে আটকে থাকা নাবিকদের একে একে তীরে নিয়ে আসে। সকল নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়, যার মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাবিক অন্তর্ভুক্ত।
সাগর থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “জাহাজ থেকে ১২ নাবিককে কোনো আঘাত ছাড়াই নিরাপদে তীরে নামিয়ে আনা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাবিকদের শারীরিক অবস্থার কোনো গুরুতর সমস্যা দেখা যায়নি এবং তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও তদন্তের অধীনে। স্থানীয় পুলিশ কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা হ্রাস বা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনা উভয়ই বিবেচনা করছে। তদন্তকারী দল জাহাজের রেকর্ড, ন্যাভিগেশন ডেটা এবং বালু প্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে মূল কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করবে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দু’দেশের সমুদ্র পরিবহন সংস্থা পূর্বে যৌথ প্রশিক্ষণ ও জরুরি সাড়া পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা উভয় দেশের নৌবাহিনীর সমন্বিত তত্ত্বাবধান ও তথ্য শেয়ারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
এ পর্যন্ত একই নদীতে কয়েকটি ছোট নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ডে আছে, তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের বড় আকারের দুর্ঘটনা কমই দেখা যায়। গত বছর তুরস্কের উপকূলে ১৪ অভিবাসীর মৃত্যু ঘটার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নৌযাত্রীর নিরাপত্তা মানদণ্ডকে কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছিল।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে, গঙ্গা ও তার শাখা নদীগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবহন নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি উভয়ই বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, বালু প্রবাহ, কুয়াশা এবং যান্ত্রিক ত্রুটি একত্রে নৌযাত্রীর জন্য মারাত্মক হতে পারে, তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ন্যাভিগেশন প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত রাডার সিস্টেম স্থাপন, নৌকা রেজিস্ট্রেশন কঠোর করা এবং সীমান্ত পারাপার জাহাজের জন্য দ্বিপাক্ষিক তত্ত্বাবধান বাড়ানো হবে। এছাড়া, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও নৌকাচালকদের জন্য নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারত দু’দেশই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে সমন্বিত তদারকি ও দ্রুত সাড়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



