ব্রাজিলের ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ এই বছর অস্কারের সর্বোচ্চ ছবি বিভাগে দ্বিতীয়বার মনোনয়নের যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত বছর ‘আইম স্টিল হিয়ার’ প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে এই মর্যাদাপূর্ণ ক্যাটেগরিতে প্রতিনিধিত্ব করেছিল।
ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯৯৮ সালের ‘সেন্ট্রাল স্টেশন’ পর থেকে দীর্ঘ বিরতি ছিল, যখনও ওয়াল্টার স্যালেসের পরিচালনায় ‘সেন্ট্রাল স্টেশন’ অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে মনোনীত হয়েছিল। সেই পর থেকে ‘আইম স্টিল হিয়ার’ এবং এখন ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ দুটোই এই ক্যাটেগরিতে পুনরায় ব্রাজিলকে তুলে ধরেছে।
‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ একই সঙ্গে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জন্যও মনোনীত হয়েছে এবং সমালোচক পছন্দের পুরস্কার যেমন ক্রিটিক্স চয়েস ও গোল্ডেন গ্লোবসে জয়লাভের পর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি এই চলচ্চিত্র ২০২৬ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে, তবে তা প্রায় চার দশকের পর প্রথমবারের মতো দু’বছরে দু’বার জয়ের সমান হবে; শেষবার ডেনমার্কের ‘বাবেটের ভেস্ট’ (১৯৮৭) ও ‘পেল দ্য কনকোয়ারার’ (১৯৯৮) ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেছিল।
চলচ্চিত্রের রচয়িতা ও পরিচালক ক্লেবার মেনডোন্সা ফিলহো, যিনি ‘বাকুরাউ’ দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন, ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’কে ইউরোপীয় উৎসবের মঞ্চে উজ্জ্বল করে তোলেন। উৎসবের পর্যালোচনায় চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয় এবং পরবর্তীতে অস্কারের অপ্রত্যাশিত প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে, যেখানে ফ্রান্সের ‘এমিলিয়া পেরেজ’ এবং নরওয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ মত উচ্চপ্রোফাইল চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে।
গোল্ডেন গ্লোবসের পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ের প্রধান অভিনেতা ওয়াগনার মুরা এবং ‘আইম স্টিল হিয়ার’এর ফার্নান্ডা টোরেস উভয়েই সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনীত হন। উভয়ই তাদের পারফরম্যান্সের জন্য গ্লোবস জয় করেন, যা অস্কারের দিকে তাদের যাত্রাকে আরও দৃঢ় করে।
ওয়াগনার মুরা এখন পর্যন্ত তৃতীয় ব্রাজিলীয় অভিনেতা যিনি অস্কারের সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পূর্বসূরি হলেন ফার্নান্ডা টোরেস এবং তার মা, ‘সেন্ট্রাল স্টেশন’এর প্রধান চরিত্রে অভিনয়কারী ফার্নান্ডা মন্টে রো। মুরা বর্তমানে তিমোথি শালামের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ের সাফল্য ব্রাজিলের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি পেতে পারে এমন গল্পের গুণমান ও নির্মাণের মানকে এই অর্জন প্রমাণ করে।
ব্রাজিলের চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখনো এই সাফল্যকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী পুরস্কার জয়ের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
অস্কার কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চললেও, ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ ইতিমধ্যে সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে। এর থিম, ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং পারফরম্যান্সের গভীরতা চলচ্চিত্রকে আলাদা করে তুলেছে।
ব্রাজিলের চলচ্চিত্র শিল্পের এই উত্থান আন্তর্জাতিক বিনোদন বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকান চলচ্চিত্রের জন্য এই ধরনের স্বীকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ এবং ‘আইম স্টিল হিয়ার’ দুটোই দেখায় যে ব্রাজিলীয় গল্পগুলো বিশ্বজনীন আকর্ষণ রাখে এবং সঠিক সময়ে সঠিক মঞ্চে উপস্থাপিত হলে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা থাকে।
অবশেষে, অস্কার ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্রাজিলের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের জন্য অনুপ্রেরণা দেবে। এই মুহূর্তে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে সকলেরই স্বাগত জানাতে হবে।



