ফরিদাবাদের অতিরিক্ত দায়রা জজ পুরুষোত্তম কুমার ৫৪ বছর বয়সী সিং রাজকে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই মামলায় তিনি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত অতিরিক্তভাবে তাকে দুই লাখ দশ হাজার টাকার জরিমানা আরোপ করেছে।
বিচারক ২৯ জন সাক্ষীর বিবৃতি শোনার পর রায় দেন। মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে রায়ে পৌঁছানো হয়েছে। এছাড়াও, সিং রাজের বিরুদ্ধে অন্যান্য অপরাধের মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
বহু বছর আগে, ভুপানি গ্রামের এক নারী তার ২০ বছর বয়সী ভাতিজির অদৃশ্য হওয়ার অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগটি জানুয়ারি ২০২২-এ নথিভুক্ত হয় এবং তদন্তের সূচনা করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ৬ জানুয়ারি নিখোঁজ তরুণীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। দেহটি নদীর তীরবর্তী এলাকায় পাওয়া যায়। পরের দিন, ফরিদাবাদের জাসানা গ্রামের বাসিন্দা সিং রাজকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত সিং রাজ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে তিনি তরুণীকে হত্যা করে তার দেহ নদীর তীরে ফেলে দিয়েছেন। এছাড়া, তিনি আরও পাঁচজনের মৃত্যুর স্বীকারোক্তি দেন, যার মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই স্বীকারোক্তি তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করে।
সিং রাজের প্রথম হত্যাকাণ্ড ২০১৯ সালে ঘটেছে, যখন তিনি একজন চা বিক্রেতার মেয়ের ওপর যৌন হয়রানি করেন এবং পরে তাকে হত্যা করেন। এই ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল তার অপরাধ লুকিয়ে রাখা।
এক বছর পর, ২০২০ সালের আগস্টে, তিনি একই হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। যখন ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী তার যৌন আক্রমণের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে, তখন তিনি তাকে হত্যা করে দেহ গোপন করেন।
পরের বছর, ২০২১ সালের জুনে, হাসপাতালের আরেকজন কিশোরী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজের বিরোধ এবং ব্যক্তিগত বিরক্তি ছিল বলে তদন্তে জানা যায়।
ফরিদাবাদ পুলিশ এই তিনটি মামলাকে সিং রাজের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সাক্ষীর বিবৃতি এবং তার পূর্বের অপরাধের রেকর্ড ব্যবহার করেছে। ফলে ৩০ মার্চ ২০২২-এ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
বর্তমান রায়ের পাশাপাশি, সিং রাজের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলায়ও বিচার চলমান। আদালত আগামী সপ্তাহে এই অতিরিক্ত মামলাগুলোর শোনানির তারিখ নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে।
সিং রাজের কাজের ধরণ তাকে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিল, যা কিছু অপরাধের পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করেছে। নিরাপত্তা কর্মীর অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি শিকারদের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে আসতে পারতেন।
এই দীর্ঘমেয়াদী তদন্তে স্থানীয় পুলিশ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং আদালতের সমন্বয় দেখা গেছে। সিং রাজের সাজা সমাজে ধারাবাহিক হিংসা বিরোধী নীতি প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।



