চুয়াডাঙ্গা জেলার জিবননগর উপজেলায় ১৩ জানুয়ারি স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দাবলু সেনাবাহিনীর হেফাজতে মারা যাওয়ার পর, তার ভাই শারিফুল ইসলাম গতকাল জেলা বিচার আদালতে নয়জন সেনা সদস্য এবং অনির্দিষ্ট ১০-১৫ জন, যার মধ্যে এক নারী সৈনিকও অন্তর্ভুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের সময়ের পার্থক্য সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে শারিফুল জানান, পরিবার ও আত্মীয়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন ছিল। তিনি আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত তদন্তের আশা প্রকাশ করেন, যাতে দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
আদালতের রেজিস্ট্রার রেজিস্টারে উল্লেখ আছে যে, চুয়াডাঙ্গা সাময়িক সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফাহাদ আহমেদ আবিরকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তার পাশাপাশি ক্যাপ্টেন সুমিক, সেপোয় সোয়েল, সেপোয় অনিক, সেপোয় রতন, সেপোয় সাইফুল, সেপোয় রতুল, সেপোয় মনির এবং সেপোয় অভিজিত নামেও অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট মোহাম্মদ মোনিরুল ইসলাম জানান, মামলা গ্রহণের পর আদালত তাকে মৃতদেহের অটোপসি এবং তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি আরও জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, এবং সেই শুনানির পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দাবলু, জিবননগর পৌর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক, ১৩ জানুয়ারি রাত্রি শূন্য সময়ে হেফাজতে নেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দলের নেতারা দাবি করেন, তাকে গ্রেফতার করার পর শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়।
অন্যদিকে, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) একটি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, দাবলু যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমের সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, কোনো নির্যাতন বা অতিরিক্ত জোরপূর্বক হস্তক্ষেপের উল্লেখ নেই।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে অটোপসি ও ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট অপরিহার্য, যা আদালতের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, অভিযুক্তদের নাম ও পদবী রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
শারিফুলের মতে, পরিবারকে সময় দেওয়া সত্ত্বেও মামলার দায়ের দ্রুত করা হয়েছে, যাতে ন্যায়বিচার দ্রুততর হয়। তিনি আদালতের ন্যায়সঙ্গত রায়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে, আইএসপিআরের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দাবলু হেফাজতে থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা না থাকায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তবে, এই ব্যাখ্যা ও পরিবার ও দলীয় নেতাদের দাবি মধ্যে পার্থক্য রয়ে গেছে, যা আদালতের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
আদালতের নির্ধারিত শুনানির তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি, যেখানে অটোপসি ফলাফল, সাক্ষী বিবৃতি এবং অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। শুনানির পর আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তি বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এই ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা দাবি করছে।
মামলার অগ্রগতি ও আদালতের রায় দেশের বিভিন্ন মিডিয়া চ্যানেলে অনুসরণ করা হবে, যাতে জনসাধারণকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা যায় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।



