যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৪ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিরতিতে গাজা শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠা সনদে স্বাক্ষর করে উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২০টিরও কম দেশ প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে এই সংস্থা গাজা অঞ্চলের যুদ্ধ‑পরবর্তী পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গাজা শান্তি পর্ষদে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি দেশকে একশো বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) অবদান রাখতে হবে, যা সংস্থার স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত করবে। সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ আরও সাতটি দেশ ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক ধারণা ছিল গাজা অঞ্চলে ইসরায়েল ও হামাসের দুই বছরের সংঘাতের পর পুনর্নির্মাণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য একটি বিশেষ সংস্থা গঠন, তবে খসড়া সনদে এর কার্যপরিধি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাইরে বিস্তৃত হয়েছে।
শুধুমাত্র গাজা পুনর্গঠন নয়, সংস্থার ভূমিকা জাতিসংঘের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প নিজে এই পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, পাশাপাশি নির্বাহী পরিষদের সদস্য নিয়োগ এবং নতুন পরিষদ গঠন বা বিদ্যমান পরিষদ বাতিলের ক্ষমতা তার হাতে থাকবে।
হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক ঘোষণায় ট্রাম্পের নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের সহযোগী জারেড কুশনার এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত। গাজার প্রতিনিধিত্বের জন্য জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলে ম্লাদেনভকে নিয়োগ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নীতি ও মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের পুনর্গঠন রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। গাজা শান্তি পর্ষদকে যদি কার্যকর করা যায়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পুনর্নির্মাণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা প্রদান করতে পারে, পাশাপাশি জাতিসংঘের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে সংস্থার বিস্তৃত ক্ষমতা ও উচ্চ আর্থিক শর্তাবলী নিয়ে কিছু দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে সদস্যপদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই সংস্থার গঠন ও কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। ট্রাম্পের আহ্বান অনুযায়ী আরও দেশকে সদস্যপদে যুক্ত করতে হবে, আর সংস্থার প্রথম প্রকল্প হিসেবে গাজা অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, মানবিক সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, সংস্থার কার্যক্রম কীভাবে জাতিসংঘের বিদ্যমান মিশন ও কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করবে, তা আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।
গাজা শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠা গাজা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের জন্য একটি নতুন কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এর বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর আর্থিক ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির ওপর। ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই সংস্থা কীভাবে কাজ করবে এবং গাজা ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কী প্রভাব ফেলবে, তা আগামী মাসে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



