23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানবিজ্ঞানীরা প্রাণীর আনন্দের উপস্থিতি ও মাপার পদ্ধতি অনুসন্ধান করছেন

বিজ্ঞানীরা প্রাণীর আনন্দের উপস্থিতি ও মাপার পদ্ধতি অনুসন্ধান করছেন

বৈজ্ঞানিক গবেষকরা সম্প্রতি প্রাণীদের মধ্যে সুখ ও আনন্দের উপস্থিতি যাচাই করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী কীভাবে ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করে তা বুঝতে নতুন পদ্ধতি বিকাশের লক্ষ্য এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

একটি সাধারণ উদাহরণে, বাড়ির বিড়াল ট্যাঙ্গো তার সহধর্মী টেডিকে তাড়া করে আনন্দের সঙ্গে লেজে হাত দেয়। এই দৃশ্যটি মালিকের কাছে প্রাণীর আনন্দের স্পষ্ট চিহ্ন হিসেবে দেখা যায়।

প্রাণীজগতের অন্যান্য উদাহরণেও সমানভাবে ইতিবাচক আচরণ লক্ষ্য করা যায়; কুকুরগুলো পার্কে দৌড়ে, কাঠবিড়ালি গাছের ডালের ওপর চঞ্চলভাবে দৌড়ায়। তবে এই আচরণগুলো সত্যিই আনন্দের প্রকাশ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়।

প্রাণীর অভ্যন্তরীণ অনুভূতি সরাসরি জানার কোনো উপায় না থাকায় গবেষকরা প্রায়ই বাহ্যিক আচরণকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে ছোট কাঠবিড়ালির খেলাধুলা এবং প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সঙ্গী অনুসন্ধানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে।

ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, চার্লস ডারউইন ১৯শ শতাব্দীর শেষ দিকে উল্লেখ করেন যে নিম্ন স্তরের প্রাণীও আনন্দ ও দুঃখের মতো অনুভূতি অনুভব করে। এই ধারণা দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক আলোচনার ভিত্তি গঠন করেছে।

২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আচরণবাদের প্রভাবের ফলে গবেষণার দিক পরিবর্তিত হয়। ইভান পাভলভের কুকুরের পরীক্ষায় ঘণ্টা বাজলে লালার নিঃসরণ মাপা হয়, আর বি.এফ. স্কিনারের পাখি ও ইঁদুরকে লিভার চাপিয়ে নির্দিষ্ট কাজ করাতে দেখা হয়। এই পদ্ধতিগুলো কেবল দৃশ্যমান ক্রিয়াকলাপের ওপর জোর দেয়, ফলে আবেগের সূক্ষ্ম দিকগুলো উপেক্ষিত থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা ইতিবাচক মানসিক অবস্থা, অর্থাৎ “পজিটিভ আফেক্ট”, মাপার নতুন উপায় অনুসন্ধান করছেন। শারীরবৃত্তীয় সূচক যেমন হৃদস্পন্দন, হরমোনের মাত্রা এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পরিবর্তনকে সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে প্রাণীর মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বরের স্বর এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে আনন্দের চিহ্ন শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

এই ধরনের বহুমাত্রিক পদ্ধতি প্রাণীর অভ্যন্তরীণ অনুভূতির আরও সঠিক চিত্র প্রদান করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু গবেষণায় কুকুরের লেজের অবস্থান ও গতি, অথবা পাখির গানের স্বরকে আনন্দের সূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিততা অর্জিত হয়নি, তবে এই প্রচেষ্টা প্রাণীর কল্যাণ নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রাণীর আনন্দকে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃতি দিলে মানব-প্রাণী সম্পর্কের উন্নতি এবং প্রাণীর অধিকার সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হবে। তাছাড়া, প্রাণীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ বাড়লে পশুপালন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পোষা প্রাণীর যত্নে নৈতিক মানদণ্ডও উন্নত হবে।

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের এই চলমান গবেষণা আমাদেরকে প্রশ্ন করে: কীভাবে আমরা আরও নির্ভুলভাবে প্রাণীর সুখের মাত্রা নির্ণয় করতে পারি, এবং সেই তথ্যকে নীতি ও আচরণে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের গবেষণার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments