ঢাকা উচ্চ আদালত একটি রুল জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে গৃহীত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মন্ত্রণালয় ১৮ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অপরিহার্য ওষুধের তালিকা প্রস্তুত ও যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছে, তবে এতে আয়ুর্বেদ, উনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হেরবাল এবং পশু চিকিৎসা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
রুলে আদালত টাস্কফোর্স গঠনের নোটিফিকেশন সম্পর্কে তিন সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, ২৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত নোটিফিকেশনটি ওষুধ ও কসমেটিক্স আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৩ এবং ১০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে ক্যাবিনেট বিভাগীয় উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশাবলীর লঙ্ঘন ঘটাতে পারে।
এছাড়া, আদালত টাস্কফোর্সে সকল সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারকে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য কেন অবৈধ ঘোষণা করা উচিত নয়, তা স্পষ্ট করতে আবেদনকারীদের কারণ দেখাতে বলেছে। এই নির্দেশনা টাস্কফোর্সের গঠন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ক্ষেত্রগুলোকে পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি করবে।
রুলের প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব এবং ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালককে উত্তরদাতা হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। এদেরকে আদালতের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব করতে হবে।
এই রুলটি ১৯ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের বিচারক আহমেদ সোহেল ও ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে জারি করা হয়। রুল জারির পূর্বে দুইজন ব্যক্তি, যার মধ্যে বাংলাদেশের উনানি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এ কে মাহবুবুর রহমান অন্তর্ভুক্ত, একটি রিট পিটিশন দাখিল করে মন্ত্রণালয়ের জুলাই ২৪ নোটিফিকেশনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ছিলেন।
পিটিশনকারীদের পক্ষে সুভ্রত চৌধুরী প্রধান আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তার সহায়তায় এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক ও সানজিদ রহমান শুভো নামের দুই অ্যাডভোকেট কাজ করেন। রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান পিটিশনের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
ওষুধ ও কসমেটিক্স আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৩ স্পষ্টভাবে বলে যে, অপরিহার্য ওষুধের তালিকা প্রস্তুতিতে সকল প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এই বিধান অনুসারে আয়ুর্বেদ, উনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হেরবাল এবং পশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বাদ দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ক্যাবিনেট বিভাগীয় উপদেষ্টা পরিষদের ১০ নভেম্বর ২০২৪ নির্দেশিকায়ও টাস্কফোর্সে সকল স্টেকহোল্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয়ই সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করবে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে, যদি আদালত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে, তবে টাস্কফোর্সের গঠন পুনরায় করা হবে এবং বাদ পড়া ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে অপরিহার্য ওষুধের তালিকায় ঐতিহ্যবাহী ওষুধের স্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই মামলাটি আধুনিক চিকিৎসা ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় দেশের স্বাস্থ্য নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে এবং স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



