২১ জানুয়ারি রাতে, শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি আতিক ইউ এ খানের সামাজিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। আতিকের মতে, তিনি রাতের বেলায় ফেসবুকে লগ‑ইন করার পর লক্ষ্য করেন যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্যের খবরের পোস্টে ‘হাহা’ রিঅ্যাকশনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
বিশেষ করে, তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড ক্যাম্পেইন’ সংক্রান্ত খবরের পোস্টে মোট প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার রিঅ্যাকশন পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সত্তর শতাংশ ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন। একইভাবে, কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট প্রদান ঘোষণার খবরের পোস্টে চুয়াল্লিশ হাজার রিঅ্যাকশনের মধ্যে পঁয়ষট্টি শতাংশ ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের একটি বক্তব্য সংক্রান্ত খবরেও রিঅ্যাকশন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন দিয়েছেন। এই প্রবণতা আতিকের পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য, কারণ সাধারণত রাজনৈতিক সংবাদে সমর্থক ও বিরোধী উভয়েরই মিশ্র রিঅ্যাকশন প্রত্যাশিত হয়।
আতিক একই সময়ে লক্ষ্য করেন, বহু বিএনপি সমর্থকের পোস্টে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডা. খালিদুজ্জামানের ডিগ্রি ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানে ইনফার্টিলিটি (বন্ধ্যত্ব) বিষয়ে অর্জিত, যা কোনোভাবে নকল নয়। তবে বিদেশি ডিগ্রি হওয়ায় বাংলাদেশে তা স্বীকৃত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আতিক জিজ্ঞাসা করেন, বিএনপি মিডিয়া সেল কি দুর্বল, নাকি জামায়াতের লক্ষ লক্ষ বট আইডি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে করা জরিপে বিএনপি পিছিয়ে থাকলেও, একটি জাতীয় দৈনিকের জরিপে দলটি প্রায় সত্তর শতাংশ ভোট পেয়েছে।
আতিকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রাম-গঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষের (বিএনপির লোগো) জনপ্রিয়তা এখনও উচ্চ। তিনি মনে করেন, এই গ্রামীণ সমর্থন দলটির ঐতিহ্যগত শক্তি বজায় রাখে, যদিও শহুরে ডিজিটাল পরিবেশে সমর্থকদের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে কম।
সারসংক্ষেপে, আতিকের মন্তব্যে উঠে এসেছে যে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিএনপি সমর্থকদের কম সক্রিয়তা এবং জামায়াতের বট নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে রিঅ্যাকশন প্যাটার্নে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে ডিজিটাল উপস্থিতি ও বাস্তব সমর্থনের ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে উভয় দলই সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যাতে অনলাইন রিঅ্যাকশনকে বাস্তব ভোটের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এবং ডিজিটাল পরিবেশে সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।



