27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশারারার সরকার উত্তর‑পূর্বে কুর্দি‑নেতৃত্বাধীন এলাকা পুনরুদ্ধার

শারারার সরকার উত্তর‑পূর্বে কুর্দি‑নেতৃত্বাধীন এলাকা পুনরুদ্ধার

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল‑শারারা নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান সরকার গত সপ্তাহে উত্তর‑পূর্বের বিশাল অংশ দখল করেছে, যা দীর্ঘ সময় কুর্দি‑নেতৃত্বাধীন সাইরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (SDF) নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই জয় সিরিয়ার ভূ‑রাজনৈতিক মানচিত্রে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে সর্ববৃহৎ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিসেম্বর ২০২৪-এ ইসলামিক বিদ্রোহীরা বশার আল‑আসাদকে উৎখাত করে ১৩ বছর চলা গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়। তার পর থেকে সিরিয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে কুর্দি গোষ্ঠী প্রায় এক‑তৃতীয়াংশ ভূমি নিয়ন্ত্রণে রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে তারা ইস্লামিক স্টেট (IS) ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ফলে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে ওঠে, যেখানে SDF সামরিক বাহিনীর প্রধান দায়িত্বে ছিল।

শারারার সরকার ও SDF-র মধ্যে সংহতি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি ধীর হয়ে গিয়েছিল। মার্চ মাসে উভয় পক্ষ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, বছরের শেষের সময়সীমা পার হয়ে কোনো বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। SDF স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে অনিচ্ছুক থাকায় সরকারী সংহতি পরিকল্পনা স্থবির রয়ে যায়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, SDF দীর্ঘদিনের মিত্রদের সমর্থন পাবেন বলে ধারণা করে আলোচনায় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা বয়ে আনে। এই ভুল হিসাবের ফলে তারা সরকারী আক্রমণের মুখে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে শারারার সরকারকে দৃঢ় সমর্থন জানানো হয়। ট্রাম্পের প্রশাসন শারারাকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানায়, পূর্বে তাকে আল‑কায়দার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করা হলেও পরে সান্নিধ্য পুনরুদ্ধার করে এবং সিরিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

শারারার বাহিনী যখন আক্রমণ শুরু করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্পষ্ট বিরোধ প্রকাশ পায়নি, যা SDF-কে কৌশলগতভাবে দুর্বল করে দেয়। সশস্ত্র সংঘর্ষের পর, SDF উল্লেখযোগ্য ভূ‑খণ্ড হারায় এবং শেষমেশ একটি ১৪‑ধাপের চুক্তি স্বীকার করে, যা পূর্বে সরকারী আলোচনায় অর্জিত অধিকাংশ সুবিধা বাতিল করে।

এই চুক্তিতে SDF-র স্বায়ত্তশাসন সীমিত করা, তাদের সামরিক গঠনকে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা এবং পূর্বে গৃহীত স্বায়ত্তশাসিত নীতি প্রত্যাহার করা অন্তর্ভুক্ত। ফলে কুর্দি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

শারারার জন্য এই জয় তার পুরো দেশ জুড়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একদিকে, সরকারকে এখন এই নতুন নিয়ন্ত্রণকে স্থিতিশীল করতে হবে; অন্যদিকে, কুর্দি গোষ্ঠীর মধ্যে অবশিষ্ট অসন্তোষ ও প্রতিরোধের সম্ভাবনা রয়ে যায়।

অধিকাংশ পর্যবেক্ষক বিশ্বাস করেন, শারারার সরকার এখন উত্তর‑পূর্বের পুনরুদ্ধারকৃত এলাকা থেকে প্রশাসনিক সেবা পুনর্গঠন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়মূলক কাজ শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে সিরিয়ার ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের পথে একটি বড় অগ্রগতি হবে।

তবে, দীর্ঘদিনের স্বায়ত্তশাসন অভিজ্ঞতা ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সমর্থনকে বিবেচনা করলে, কুর্দি গোষ্ঠীর মধ্যে পুনরায় সংগঠনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া যায় না। সরকারকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, শারারার সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী চুক্তি সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ শক্তি কাঠামোকে পুনর্গঠন করছে। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই নতুন ভূ‑খণ্ডকে সংহত করবে এবং কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা করবে, তা সিরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments