বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে বোর্ড টি২০ বিশ্বকাপের (শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অবিরত লড়াই করবে। এই টুর্নামেন্টটি ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে এবং বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ পেলে অংশ নিতে প্রস্তুত।
বুলবুলের এই মন্তব্য বৃহস্পতিবার শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত হয়। বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল, বিসিসি সভাপতি এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা একত্রিত হয়। এটি দলীয় অংশগ্রহণ সংক্রান্ত প্রথম সরাসরি আলোচনা, যেখানে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তো, লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আসিফ নাজরুল উল্লেখ করেন যে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তিত না হওয়ায় বাংলাদেশি দলকে সেখানে ভ্রমণ করে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এই বক্তব্যের পর বুলবুল মিডিয়ার সামনে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বুলবুল বলেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটের প্রতি গর্ব থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে, আর যদি আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দেয় তবে ২০০ মিলিয়ন মানুষের ভক্তি হারাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইসিসি যদি এই দেশকে বাদ দেয় তবে একটি বিশাল ভক্তগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করবে।
বুলবুলের মতে, তারা প্রতিদিন আশা করে যে দেশের মানুষ সকালে উঠে জানবে বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে এবং আইসিসি তাদের অনুরোধ মঞ্জুর করেছে। এই আশার আলোকে তিনি বোর্ডের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি যোগ করেন, এখনো হাল ছাড়েনি এবং আজই আইসিসির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দলের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে। এই প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হল শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ নিশ্চিত করা, কারণ দলটি ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলতে ইচ্ছুক।
বুলবুল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি দল প্রস্তুত এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ পেলে তারা তৎক্ষণাৎ অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দলটি সেখানে যেতে চায় না, তাই শ্রীলঙ্কা একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
গত বুধবার আইসিসি একটি বোর্ড মিটিংয়ের পর বিসিসির শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং মূল সূচি অপরিবর্তিত রাখে। এছাড়া আইসিসি বিসিসিকে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে, ফলে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ এখনো শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আইসিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। টুর্নামেন্টের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, এবং দলটি প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনো শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনেও তারা প্রস্তুত থাকে।



