ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে যে, প্রাক্তন ইংল্যান্ড হোয়াইট‑বল খেলোয়াড় লুক উইরথ তার জাতীয় সিলেক্টরের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে এবং উইরথের পদত্যাগের তারিখ একই দিন নির্ধারিত হয়েছে।
লুক উইরথ ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের জাতীয় সিলেকশন কমিটিতে যোগ দেন, যখন তিনি তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করে নির্বাচক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার দায়িত্বের মধ্যে সীমিত‑ওভার দলগুলোর জন্য খেলোয়াড় নির্বাচন, ট্যালেন্ট স্কাউটিং এবং দলের গঠন সংক্রান্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সিলেকশন প্যানেলে তার সময়কালে, উইরথ এমন কিছু সিরিজের জন্য দল গঠন করেছেন যা নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তার উপস্থিতি বিশেষত ২০২৪ সালের নিউ জিল্যান্ড সফর এবং ২০২৫ সালের শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য নির্বাচিত স্কোয়াডে দেখা যায়।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড (ECB) তার বিবৃতিতে উইরথের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, উল্লেখ করে যে তার বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ও মাঠের অভিজ্ঞতা দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, “লুকের ক্রিকেট জ্ঞান ও পেশাদারিত্ব আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মূল্যবান সম্পদ ছিল।”
উইরথ নিজেও একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে জানান, তিনি ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটে অন্যভাবে অবদান রাখতে চান, তাই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে কোচিং বা ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্টের মতো ক্ষেত্রেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
খেলোয়াড় হিসেবে উইরথের ক্যারিয়ার ২০০৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে তিনি ৩৩টি ওডি এবং ২০টি টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইল এবং মাঝারি গতি বোলিং তাকে ইংল্যান্ডের হোয়াইট‑বল দলে একটি বহুমুখী সম্পদ করে তুলেছিল। তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন।
উইরথের পদত্যাগের পর, ইংল্যান্ডের জাতীয় দলটি শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে টেস্ট, ওডি ও টি২০ সিরিজের শিডিউল রয়েছে। সিলেকশন কমিটি বর্তমান সদস্যদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে এবং শীঘ্রই নতুন সিলেক্টর নিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করবে।
ECB উল্লেখ করেছে যে, নতুন সিলেক্টর নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান এবং বর্তমান কমিটি সদস্যরা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যাতে দল গঠন প্রক্রিয়া কোনো বাধা না পায়। এই সময়ে দলটি বিদ্যমান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং আসন্ন সিরিজের চাহিদা অনুযায়ী স্কোয়াড চূড়ান্ত করবে।
সিলেকশন প্যানেলের কাজের মধ্যে শুধুমাত্র খেলোয়াড় নির্বাচন নয়, বরং ট্যালেন্ট পুলের মূল্যায়ন, পারফরম্যান্স ডেটা বিশ্লেষণ এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় করা অন্তর্ভুক্ত। উইরথের অভিজ্ঞতা এই দিকগুলোতে বিশেষভাবে সহায়ক ছিল, যা তার পদত্যাগের পরেও কমিটিতে প্রভাব ফেলবে।
ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলটি আসন্ন আইসিসি টুর্নামেন্ট এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিলেকশন কমিটি নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি এবং বিদ্যমান কোর প্লেয়ারদের ফর্ম বজায় রাখার মধ্যে সমতা রক্ষা করার লক্ষ্য রাখবে।
উইরথের পদত্যাগের ফলে সিলেকশন কমিটিতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তবে তার অবদান এবং অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রেরণার উৎস হবে। তিনি ক্রিকেটে তার নতুন ভূমিকা গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত, যা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
সারসংক্ষেপে, লুক উইরথের জাতীয় সিলেক্টর পদ থেকে পদত্যাগ ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে, তবে তার ক্যারিয়ার এবং নির্বাচক হিসেবে কাজের ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অনুভূত হবে। ECB দ্রুত নতুন সিলেক্টর নিয়োগের মাধ্যমে দলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।



