28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআয়কর নিবন্ধন (TIN) বাতিলের জন্য আইনগত শর্ত ও প্রক্রিয়া

আয়কর নিবন্ধন (TIN) বাতিলের জন্য আইনগত শর্ত ও প্রক্রিয়া

আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬২ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে করদাতারা তাদের আয়কর নিবন্ধন (TIN) বাতিলের আবেদন করতে পারেন। এই বিধানটি ব্যবসা বন্ধ, আয়হীনতা বা আইনি কাঠামোর পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, যা করদাতাদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক বোঝা কমাতে সহায়তা করে।

বাতিলের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন কারণে উদ্ভূত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো করযোগ্য আয় না থাকলে, অথবা একক মালিকানা থেকে কোম্পানি রূপান্তরিত হলে নিবন্ধন বজায় রাখা অর্থনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। তদুপরি, ভুল বা অনাবশ্যক নিবন্ধন, নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের জটিলতা এবং সম্ভাব্য জরিমানা এড়াতে করদাতারা বাতিলের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

ধারা ২৬২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, করদাতা যদি আর ধারা ২৬৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকে এবং ধারা ২(২২)-এর অধীনে আর করদাতা হিসেবে স্বীকৃত না হন, তবে তিনি নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই শর্তটি মূলত সেইসব করদাতার জন্য প্রযোজ্য, যারা আর কোনো করযোগ্য লেনদেন করে না।

অতিরিক্তভাবে, যদি কোনো করদাতার তিনটি ধারাবাহিক আর্থিক বছরে কোনো করযোগ্য আয় না থাকে এবং শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আয় অর্জনের সম্ভাবনা না থাকে, তবে তিনি বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই বিধানটি দীর্ঘমেয়াদী আয়হীনতা ও ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনা করে।

ধারা ১৬৬ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নিবন্ধন বাতিলের ভিত্তি গঠন করে। অর্থাৎ, যদি কোনো করদাতা আর ধারা ১৬৬ অনুসারে রিটার্ন দাখিল করতে না হয়, তবে তিনি এই শর্তটি ব্যবহার করে নিবন্ধন সমাপ্তির আবেদন করতে পারেন।

করদাতার মৃত্যু, ব্যবসা বা সংস্থার বিলুপ্তি, অথবা কোনো ঘটনার ফলে প্রতিষ্ঠানটি আর অস্তিত্ব না রাখলে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। এই পরিস্থিতিতে করদাতার উত্তরাধিকারী বা সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।

যদি কোনো করদাতা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং দেশে আর কোনো আয় উৎপাদনকারী কার্যক্রমে যুক্ত না থাকেন, তবুও তিনি নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই শর্তটি আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা বা বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য।

নিবন্ধন ভুলভাবে প্রদান করা হয়েছে বা করদাতার আইনি অবস্থার পরিবর্তনের ফলে যদি নিবন্ধন আর প্রাসঙ্গিক না থাকে, তবুও বাতিলের আবেদন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, একক ব্যবসা থেকে পার্টনারশিপে রূপান্তরিত হলে পুরনো নিবন্ধন অপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

আইনটি আরও উল্লেখ করে যে, উপরে উল্লেখিত শর্ত ছাড়াও কোনো যুক্তিসঙ্গত ও বৈধ কারণ থাকলে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন গৃহীত হবে। তাই করদাতারা তাদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে পারেন।

প্রক্রিয়ার দিক থেকে, করদাতাকে সংশ্লিষ্ট কর অফিসে লিখিত আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন নথি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। কর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের পর, যদি সব শর্ত পূরণ হয়, তবে TIN আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয় এবং করদাতাকে বাতিলের নিশ্চিতকরণ প্রদান করা হয়।

বাতিলের ফলে করদাতার প্রশাসনিক ব্যয় কমে, রিটার্ন দাখিলের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায় এবং জরিমানার ঝুঁকি হ্রাস পায়। তবে, TIN বাতিল হলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনে TIN প্রয়োজনীয়তা থাকলে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যা কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ও খরচের কারণ হতে পারে।

আশা করা যায়, এই বিধানটি ব্যবসা বন্ধ বা পরিবর্তনশীল করদাতাদের জন্য একটি কার্যকর উপায় প্রদান করবে এবং কর ব্যবস্থাপনা সহজ করবে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে পারে, যা করদাতাদের জন্য সুবিধা বাড়াবে এবং কর প্রশাসনের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments