২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, মৌলভীবাজারের আইনপুরে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সামনে দলের প্রটোকল তিন গুণ বাড়ানোর আহ্বান জানালেন। সমাবেশে উপস্থিত সদস্য ও সমর্থকরা তারেকের বক্তব্য শোনার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর তীব্র সমালোচনা করেন।
সমাবেশের সূচনায় তারেক রহমান উপস্থিতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রোটোকল বিএনপির চেয়ে তিন গুণ বাড়িয়ে দিন” এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রোটোকল বাড়ানো না হলে দলীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হবে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়বে।
তারেকের এই দাবি দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, “ধানের শীষ যখন দেশ পরিচালনা করেছে, কোনো মানুষ গুমের শিকার হয়নি”। এই মন্তব্যে তিনি দেশের শাসনব্যবস্থার তুলনা ঐতিহ্যবাহী কৃষি রূপক দিয়ে করেন, যেখানে শীর্ষে থাকা শীষের ভূমিকা ও দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
বক্তৃতার ধারায় তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। এই নিশ্চয়তা একমাত্র ধানের শীষ দিতে পারে”। এখানে তিনি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের মূল চাবিকাঠি হিসেবে তা উপস্থাপন করেন।
তারেকের মন্তব্যে “টেক ব্যাক বাংলাদেশের অর্ধেকে এসেছি আমরা” কথাও উঠে আসে, যা দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে অর্ধেক অগ্রগতি অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি এ কথা দিয়ে দলের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
পূর্ববর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন, বলেন, “তামাশার নির্বাচন হয়েছে। ভোটের অধিকার ছিল না। মানুষ তাঁর কষ্টের কথা কাকে বলবে, সেই লোকটাও ছিল না”। এই বক্তব্যে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অবৈধতা ও নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণকে সমালোচনা করে দলের পুনর্গঠন ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। উপস্থিতি নিজেই রাজনৈতিক সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে বিরোধী দলের দাবিগুলি সরাসরি শাসনকর্তার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।
তারেকের প্রটোকল বৃদ্ধির দাবি পার্টির অভ্যন্তরীণ সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আর্থিক ও মানবসম্পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রোটোকল বাড়লে দলীয় কর্মীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, যা কর্মশক্তির মনোবল বাড়াবে।
বিএনপি নেতার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, প্রোটোকল বাড়ানোর দাবি পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে। যদি সরকার এই দাবিকে স্বীকার করে, তবে তা দলের সংগঠনগত কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে সহায়তা করবে এবং নির্বাচনী মঞ্চে তার উপস্থিতি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, শাসনকর্তা দলটি এই দাবিকে কীভাবে মোকাবেলা করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্রতা ও বিরোধী দলের চাপে সরকারকে প্রোটোকল সংশোধন বা অন্যান্য সমঝোতা বিবেচনা করতে হতে পারে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই দাবির বাস্তবায়ন পার্টির সংগঠনগত শক্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।
সমাবেশের শেষে উপস্থিত সদস্যরা তারেকের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে সমর্থনসূচক নাড়ি তুলেন এবং পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। এই ধরনের জনসমাবেশ রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করে।



