22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাআইসিসি‑এর ২০ কোটি দর্শক ক্ষতি সতর্কতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় টি‑২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ...

আইসিসি‑এর ২০ কোটি দর্শক ক্ষতি সতর্কতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় টি‑২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সরকার ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকের পরও ভারতের মাটিতে কোনো টি‑২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা আইসিসি যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, তা দেশীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে শ্রীলঙ্কা একমাত্র সম্ভাব্য হোস্ট হিসেবে রয়ে গেছে, আর আইসিসি‑এর সম্ভাব্য দর্শক ক্ষতি ২০ কোটি (প্রায় ২০০ মিলিয়ন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত শেষ তারিখে বাংলাদেশ দলকে ম্যাচের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছিল, তবে বিসিবি ও সরকারের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তারা তা স্বীকার করেনি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং ভারতীয় মাটিতে খেলার সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বৈঠকে জানিয়েছেন, আইসিসি যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসি যে আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছে, তা মূলত দর্শকসংখ্যা হ্রাসের ফলে হবে এবং তা সম্পূর্ণ আইসিসি‑এর দায়িত্ব।

বুলবুলের মতে, আইসিসি একটি বৈশ্বিক সংস্থা হলেও এমন একধরনের চূড়ান্ত সময়সীমা আরোপ করা তার ক্ষমতার বাইরে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, শ্রীলঙ্কা যদি হোস্ট হিসেবে স্বীকৃত হয়, তবে বাংলাদেশ সেখানে খেলা চালিয়ে যাবে। এই অবস্থান সরকার ও বিসিবি উভয়েরই একমত।

বুলবুল আরও উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক হিসেবে স্বীকার না করা আইসিসির সিদ্ধান্তকে তিনি ‘হাইব্রিড মডেল’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি আইসিসি সভায় শোনা কিছু মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন একটি মডেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানান, ভারতকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আশাবাদী যে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং সরকার এই বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

খেলোয়াড়রা ম্যাচে অংশ নিতে ইচ্ছুক ছিলেন, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারী নীতি তাদের প্রত্যাশা পূরণে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে খেলোয়াড়দের ইচ্ছা সত্ত্বেও দলটি ভারতীয় মাটিতে খেলা থেকে বিরত রয়েছে।

আইসিসি পূর্বে জানিয়েছিল, যদি বাংলাদেশ নির্ধারিত সূচিতে ভারতীয় মাটিতে না খেলে, তবে অন্য কোনো দলকে (সম্ভবত স্কটল্যান্ড) টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আইসিসি কোনো বিকল্প দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি।

শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের সম্ভাব্য স্থান ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে বিসিবি ও সরকার শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। টি‑২০ বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ দল কীভাবে অংশগ্রহণ করবে, তা আইসিসি ও শ্রীলঙ্কা দু’পক্ষের সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল।

এই পরিস্থিতিতে আইসিসি‑এর আর্থিক ক্ষতি ও দর্শকসংখ্যা হ্রাসের পূর্বাভাসের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা হোস্ট হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশীয় নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার চাহিদার সমন্বয়ই এখনো শেষ না হওয়া আলোচনার মূল বিষয়।

৮২/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিনবিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments