ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ওপর সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে গম্ভীর আলোচনা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত নীতি ও তার সম্ভাব্য আঞ্চলিক সম্প্রসারণের ফলে ক্রীড়া জগতে উত্তেজনা বাড়ছে। এই বিষয়টি প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নয় এমন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত সোমবার হাঙ্গেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফএ) এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় জাতীয় সমিতির প্রধানদের মধ্যে এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা কীভাবে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গঠন করা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনার মূল বিষয় ছিল ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ও তার পরবর্তী কূটনৈতিক চালচলন। ট্রাম্পের বুধবারের একটি মন্তব্যে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক দখল করবেন না বলে স্পষ্ট করেন, এবং পরে একটি চুক্তির রূপরেখা প্রকাশের ইঙ্গিত দেন। এই বিবৃতি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
কিছু ফেডারেশন ট্রাম্পের ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্টিনোর কাছ থেকে “শান্তি পুরস্কার” গ্রহণের ঘটনাকে হালকা ভাবে দেখেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে। তবে অধিকাংশ সংস্থা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনকে উপেক্ষা করতে পারবে না বলে একমত হয়েছে।
ইনফ্যান্টিনো ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে ইউরোপীয় ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি বাড়ছে। ফিফা এখন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং যদি ট্রাম্প তার ভূখণ্ডগত লক্ষ্যকে তীব্র করেন, তবে ইউরোপীয় ফেডারেশনগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে এখন একটি সাধারণ অবস্থান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ইউইফা বা পৃথক ফেডারেশনগুলো একত্রে একটি সমন্বিত কৌশল তৈরি করতে পারে, অথবা অন্তত ভবিষ্যতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকতে পারে। এই ধরনের প্রস্তুতি না থাকলে ইউরোপীয় ফুটবলের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই আলোচনাগুলো এখনও গোপনীয় স্তরে চলছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে যে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর নীতি পরিবর্তনের পর ইউরোপীয় ফুটবলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার চাহিদা বাড়ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চলমান, এবং ইউরোপীয় দলগুলোও তাদের নিজস্ব টুর্নামেন্ট ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা মেনে চলছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি ফুটবলের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে তা গেমের সময়সূচি, টিকিট বিক্রয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিবর্তন আনতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো এখন ট্রাম্পের নীতি ও তার সম্ভাব্য ভূখণ্ডগত পরিকল্পনা নিয়ে গম্ভীরভাবে ভাবনা চালাচ্ছে। হাঙ্গেরিয়ান এফএর বার্ষিকী অনুষ্ঠানে শুরু হওয়া এই আলোচনা ভবিষ্যতে কীভাবে ফুটবলের আন্তর্জাতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট যে ইউরোপের শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থাগুলো এই বিষয়কে উপেক্ষা করতে পারবে না।



