রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে আজ সকাল থেকে কোনো বাস চলাচল না হওয়ায় যাত্রীদের বড় অসুবিধা দেখা দিয়েছে। মোটর মালিক সমিতি হঠাৎ রুটটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে রাঙামাটির সাধারণ জনগণ, বিশেষত শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা টিকিট কাটার পর হঠাৎ রাস্তায় আটকে যায়।
সমিতির এই পদক্ষেপের পেছনে গত বুধবার সন্ধ্যায় রিজার্ভ বাজারে স্থানীয় জেলা বিএনপি নেতার সঙ্গে সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম শাকিলের মধ্যে কথোপকথন ভিন্নমত হয়ে ওঠা উল্লেখ করা হয়েছে। তর্কের পর সমিতির কর্মীরা রাঙামাটি সৌদিয়া পরিবহন কাউন্টারে প্রবেশ করে দরজা ভেঙে তালা খুলে দেয় এবং সৌদিয়া বাসের চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সৌদিয়া বাসের যাত্রীদের মধ্যে তৎক্ষণাৎ ক্ষোভ দেখা দেয়। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তায় রাতে কাউন্টার পুনরায় খুলে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়, তবে সমিতি এই ঘটনার পর আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটে সমস্ত বাস সেবা বন্ধ করে দেয়। টিকিট কাউন্টারও বন্ধ থাকে, ফলে আগেই টিকিট কাটা যাত্রীরা অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখোমুখি হয়।
একজন রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী মো. বেলাল হোসেন শাওন জানান, তিনি দু’দিন আগে পাহাড়িকা বাসের টিকিট কাটেছিলেন, কিন্তু সকালবেলা কাউন্টার খুলতে গিয়ে জানেন যে রুটটি বন্ধ। তিনি এখন বেশি ভাড়া দিয়ে অটোরিক্সা ব্যবহার করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনের মতে, দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে রঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোটর মালিক সমিতি রঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে বাস বন্ধের কারণ হিসেবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার কথা উল্লেখ করেছে, যদিও সমিতি কর্তৃক কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করা হয়নি। এই অনিয়মিত পদক্ষেপের ফলে রঙামাটির বাস টিকিট বিক্রেতা ও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত বেড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটের বন্ধে পণ্য পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করছে। বিশেষত রিজার্ভ বাজারের বিক্রেতারা গ্রাহকদের পণ্য পৌঁছাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিএনপি নেতার সঙ্গে সমিতির নেতার মধ্যে ঘটিত তর্কের বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে যে কথোপকথনটি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘর্ষের ফল। এই সংঘর্ষের পর সমিতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রুটটি বন্ধ করে দেয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে।
রঙামাটি শহরের বাস টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় অনলাইন ও ফোনের মাধ্যমে টিকিট ক্রয়ের চাহিদা বেড়েছে। তবে অনলাইন সিস্টেমের সীমিত ক্ষমতা ও নগদ লেনদেনের অভাবে যাত্রীরা বিকল্প পরিবহন খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।
অটোরিক্সা চালকদের মতে, রঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটে বাস বন্ধের ফলে তাদের কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভাড়া বাড়ার ফলে যাত্রীদের আর্থিক বোঝা বাড়ছে। কিছু চালক অতিরিক্ত সময় কাজ করে অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টা করছেন।
অধিকাংশ যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করছেন এবং দ্রুত রুটটি পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছেন। তারা উল্লেখ করছেন যে রঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটটি দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান ধারা এবং এর বন্ধে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
মোটর মালিক সমিতি এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এবং যাত্রীদের সমস্যার সমাধান করতে অতিরিক্ত বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই রঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর রঙামাটির রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে, যেখানে স্থানীয় নেতারা সমিতির পদক্ষেপকে রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্লেষণ করছেন। ভবিষ্যতে রঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটের সেবা পুনরায় চালু হলে এই ধরনের সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে তা নিয়ে আলোচনা চলবে।



