বোম্বে হাই কোর্ট বুধবার কুমার সানুর ৫০ কোটি রুপি মূল্যের মানহানি মামলায় অস্থায়ী রিলিফ প্রদান করে। গায়ক তার প্রাক্তন স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালত রিতা ও কিছু স্বাধীন মিডিয়া সংস্থাকে গালিগালাজ, মিথ্যা বা মানহানিকর কোনো মন্তব্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখার আদেশ দেয়।
বিচারক মিলিন্দ যাধব গালিগালাজের সীমা অতিক্রম করেছে বলে রিতার সাক্ষাৎকারগুলোকে ন্যায়সঙ্গত মন্তব্যের বাইরে গণ্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সাক্ষাৎকারে রিতা সানুর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা প্রথম দৃষ্টিতে মানহানিকর বলে বিবেচিত হতে পারে।
আদালত রিতা ও নির্দিষ্ট মিডিয়া হাউসকে যে কোনো রূপে—লেখা, কথা, পোস্ট, প্রকাশনা বা ডিজিটাল মাধ্যমে—সানু বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য ছড়ানো থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া, সামাজিক মিডিয়া, মুদ্রণ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রিতা যে কোনো সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর বিষয় প্রকাশ করলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, যতক্ষণ না অস্থায়ী আবেদন শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিনিধি আইনজীবী আতিফ শাখ রিতার পক্ষ থেকে আদালতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন, কারণ দম্পতির পুত্রের সাম্প্রতিক বিবাহের কথা উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার আহ্বান জানান। আদালত এই অনুরোধ নোট করে, তবে রিতাকে তৎক্ষণাৎ বিরত থাকতে এবং গালিগালাজের কোনো নতুন রূপ না দেখাতে নির্দেশ দেয়।
কুমার সানুর পক্ষে কাজ করা আইনজীবী সানা রায়েস খান উল্লেখ করেন যে রিতার সাক্ষাৎকারের ফলে গায়কের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, এই বিবৃতি গুলোর ফলে সানুর আন্তর্জাতিক শো বাতিল হয়েছে এবং তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, সানুর ব্যক্তিত্ব অধিকার পূর্বে দিল্লি হাই কোর্টে সুরক্ষিত হয়েছে, যা এই মামলায় পুনরায় উল্লেখ করা হয়।
অবশেষে, আদালত রিতার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে, যাতে তিনি এবং নির্দিষ্ট মিডিয়া সংস্থাগুলি সানু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর মন্তব্য না করে। এই রিলিফের মাধ্যমে সানুর পেশাগত ক্ষতি রোধের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর, সানু ও তার আইনজীবী দল আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। রিতা ও তার আইনজীবী দলও আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য, যদিও তারা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
মামলাটি এখন অস্থায়ী রিলিফের আওতায় রয়েছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনা হবে। আদালত উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে এবং গালিগালাজের কোনো নতুন রূপ না দেখাতে আহ্বান জানিয়েছে।



